প্রশ্ন কবির হোসেনের
কৃষক বলে কি আমরা কোট-টাই পরতে পারব না

সংগৃহীত ছবি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে মঙ্গলবার কৃষক কার্ড নিয়েছেন টাঙ্গাইলের কৃষক কবির হোসেন। কৃষক কার্ড নেওয়ার সময় সাবলীল ও প্রমিত ভাষায় তিনি একটি বক্তব্য দেন। এই সংবাদ প্রচারের পরপরই তাকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় তোলপাড়। তিনি প্রকৃতপক্ষে কৃষক কি না, তা নিয়েও চলে নানা বিতর্ক। একই সঙ্গে ভাইরাল হয় ২০২৫ সালে তার ফেসবুকে পোস্ট করা কিছু এআই জেনারেটেড ছবিও। এতে আরও জটিল হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।
একটি গরুর খামার আছে কবির হোসেনের। আজ বৃহস্পতিবার সকালে কবিরের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, নিজের জমিতে তিনি সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে চাষাবাদ করেন প্রায় ৬ শতক জমি। বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষও করেন তিনি। কৃষিকাজের পাশাপাশি সংসার চালাতে তৈরি করেন ভিডিও কনটেন্ট।
নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে কবির হোসেন বলেছেন, তিনি একজন প্রকৃত প্রান্তিক কৃষক। তার পরিবার ও পূর্বপুরুষরা কৃষিনির্ভরশীল। কৃষিকাজের পাশাপাশি তিনি ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করেন। সেই ভিডিওতে ভিউ পাওয়ার আশায় কিছু কিছু কনটেন্ট তৈরি করেন এআই দিয়েও। এখন ছড়িয়ে পড়েছে সেসব ছবিই।
আমি সুন্দর করে, শুদ্ধ ভাষায়, ভদ্র সুরে কিছু কথা বলেছি— সেটাই কি অপরাধ?— প্রশ্ন রাখেন তিনি। তার ভাষ্য, দেশবাসীর কাছে একটাই চাওয়া, আমার কোন ছবি আসল আর কোনটা নকল দয়া করে বিশ্লেষণ করে দেখবেন
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, কৃষক বলে কি আমরা কোট-টাই পরতে পারব না? সংবিধানের কোন জায়গায় লেখা আছে যে কৃষকরা কোট-টাই পরতে পারবে না? আমি এটার তীব্র নিন্দা জানাই। যারা ট্রল করছেন, তারা এসে দেখুন আমার বাড়ি, আমার জমি। তারপর বিচার করুন। আমি যদি প্রতারক হই, তবে যে শাস্তি দেবেন মেনে নিতে রাজি।
‘আমি সুন্দর করে, শুদ্ধ ভাষায়, ভদ্র সুরে কিছু কথা বলেছি— সেটাই কি অপরাধ?’— প্রশ্ন রাখেন তিনি। তার ভাষ্য, দেশবাসীর কাছে একটাই চাওয়া, আমার কোন ছবি আসল আর কোনটা নকল দয়া করে বিশ্লেষণ করে দেখবেন।
কবির হোসেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের উত্তর তারুটিয়া গ্রামের আবু সাইদ (ননী) তালুকদারের ছেলে।
জানা যায়, দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে কবির হোসেনই সবার বড়। তার বাবা চারজন সন্তানকে লালনপালন করেছেন কৃষিকাজ করেই। কবির হোসেনেরও রয়েছে এক ছেলে এক মেয়ে। তিনিও মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন কৃষি কাজ করেই।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লা খান জানান, নিজস্ব জমি তেমন নেই কবির হোসেনের। তবে সেচ প্রকল্পের জমিতে চাষাবাদ করেন তিনি। একটি গরুর খামার আছে তার। আবার সবজি চাষ করেন ভিটে-বাড়িতে। তিনি আরও জানান, অনেকে বিভ্রান্ত হচ্ছেন, তার সুন্দর বাচনভঙ্গি ও পোশাক দেখে। কিন্তু তিনি প্রকৃত কৃষক।
সরেজমিন পরিদর্শন করেছি আমরা। সেখানে কবির হোসেনকে একজন প্রকৃত কৃষক হিসেবে পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।
কবির হোসেনের শ্যালক মো. হাসান তালুকদার জানান, বহু বছর আগে বিদেশে গিয়েছিলেন কবির। সেখানে সুবিধা করতে না পেরে দেশে ফিরে জীবিকা নির্বাহ করেন কৃষিকাজ।
স্থানীয় কৃষক শফিক তালুকদার বলেছেন, কবিরের বাপ-দাদার আমলে জমি ছিল; কিন্তু ভাগ-বাটোয়ারা করে তা কমে গেছে। তবুও ছাড়েননি কৃষি তিনি।
কবির হোসেন প্রকৃত কৃষক কিনা জানতে সরেজমিন তদন্ত করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম ও উপপরিচালক আশেক পারভেজ। তদন্তে প্রমাণ মিলেছে কবির হোসেন একজন প্রকৃত প্রান্তিক কৃষক। তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা বলে নিশ্চিত করেছেন তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মহাপরিচালক আব্দুর রহিম বলছেন, প্রকৃত বিষয়টি উদ্ঘাটনের জন্য সরেজমিন পরিদর্শন করেছি আমরা। সেখানে কবির হোসেনকে একজন প্রকৃত কৃষক হিসেবে পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি প্রান্তিক পর্যায়ের একজন কৃষক।



