১৮ ঘণ্টা পর বিপৎসীমার নিচে নামল তিস্তার পানি

পানি কমলেও মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। ছবি : আগামীর সময়
দুই দিনের অতিভারি বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করলেও ১৮ ঘণ্টার ব্যবধানে তা আবার নিচে নেমে এসেছে। ফলে লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও দ্রুত উন্নতি ঘটেছে।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১২টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১০ মিটার যা বিপদসীমার (৫২ দশমিক ১৫ মিটার) ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। বিকাল ৩টায় আরো কমে ১০ সেন্টিমিটারে অবস্থান করছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারি বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সোমবার রাত ১০টার দিকে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়। আকস্মিক বন্যায় চরাঞ্চলের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও আবাদি জমি তলিয়ে যাওয়ায় কয়েক শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। তবে মঙ্গলবার সকাল থেকেই পানি কমতে শুরু করে। সকাল ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আরও কমে বিপদসীমার নিচে নেমে আসে।
নদী তীরবর্তী গোবর্দ্ধন গ্রামের বাসিন্দা আবদার রহমান জানালেন, গতরাতে হঠাৎ পানি বাড়ায় চরের অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল। সকাল থেকে পানি নেমে যাওয়ায় ঘরবাড়ি থেকে পানি নামছে। তবে ঘরে পানি ঢোকায় আসবাবপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে, মানুষের দুর্ভোগ এখনও কমেনি।
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার গুঞ্জন বিশ্বাস পানিবন্দি পরিবারগুলোর খোঁজ নিতে এসে মহিষখোচা স্পারবাঁধ এলাকায় সাংবাদিকদের সাথে কথা বললেন, জেলা প্রশাসক স্যারের দিক নির্দেশনায় আমার খোঁজ খবর নিচ্ছি। আমরা দ্রুতই ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো হবে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিল কুমার জানান, গত মৌসুমে জেলার ৫টি উপজেলার নদী তীরবর্তী প্রায় ১১ কিলোমিটার এলাকায় নদী শাসনের (তীর সংরক্ষণ) কাজ করা হয়েছে। এর ফলে নদীর মূল স্রোতধারা সরে যাওয়ায় বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও লোকালয়ে বড় ধরনের প্লাবন ঘটেনি।
বন্যা পরিস্থিতি ও ত্রাণ সহায়তার বিষয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক রাসেদুল হক প্রধান জানান, তিস্তার পানি রাতে বাড়লেও সকাল থেকে কমতে শুরু করেছে এবং দুপুরের মধ্যেই পরিস্থিতির বড় উন্নতি হয়েছে। বন্যা মোকাবিলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের অনুকূলে আগেই চাল ও নগদ টাকা বরাদ্দ দেওয়া আছে। তারা প্রয়োজন অনুযায়ী তা বিতরণ করবেন বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।





