নতুন প্রজন্ম দেশটাকে এগিয়ে নিতে পারবে: প্রধানমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি
আমাদের নতুন প্রজন্ম দেশটাকে এগিয়ে নিতে পারবে— এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ মঙ্গলবার সকালে স্টার্টআপ উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীদের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
তিনি বললেন, ‘এখন কাজ করার সময়। যারা নতুন উদ্যোক্তা অথবা উদ্যোক্তা হতে চান তাদের জন্য কাজটি অনেক কঠিন। কিন্তু ইচ্ছাশক্তি থাকলে সম্ভব।’
সরকারপ্রধানের মতে, ‘আপনাদের অনেক কষ্টের মধ্যদিয়ে যেতে হবে। তবে সরকার আপনাদের পাশে আছে সহযোগিতা করার জন্য। আপনাদের পথ দেখানোর জন্য। আমরা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘যেহেতু দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছি দেশকে নিয়ে আমরা চিন্তা করি। দেশের বিভিন্ন সেক্টর নিয়ে চিন্তা করি। আজকে যখন আপনাদের (নতুন উদ্যোক্তা) দেখলাম। গত দুটি ইভেন্টে বাচ্চাগুলোকে দেখেছি। আজকে আমার কাছে মনে হয়েছে এই যে রাতদিন পরিশ্রম করছি, চেষ্টা করছি একটু চেঞ্জ করার জন্য। আমার মনে হলো যে, হ্যাঁ আমরা কিছুসংখ্যক মানুষের হাতে দিয়ে যেতে পারব যারা আমরা যেখানে ছেড়ে যাব সেখান থেকে তারা দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।’
তারেক রহমান বললেন, ‘আমার জীবনের ছোট্ট একটি বিষয় তুলে ধরতে চাই। জীবনে মোটামুটি ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য একসময় আমি ব্যবসা-বাণিজ্য করেছি। তবে ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করতে না করতেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে যাই। কিন্তু দুটো জিনিস একসঙ্গে চলে না। পরে ঠিক করেছি রাজনীতিতেই আমাকে এগিয়ে যেতে হবে।’
অতীতে নিজের ওপর নেমে আসা নির্যাতনের কথা স্মরণ করে তিনি জানালেন, ‘কিন্তু এই এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমাকে অমানুষিক নির্যাতনের মধ্যদিয়ে যেতে হয়েছে। আমাকে অনেক ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এরপর আল্লাহর রহমতে আজ একটা জায়গায় এসে পৌঁছেছি।’
প্রধানমন্ত্রী তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বললেন, ‘আপনাদের বলি আপনাদের কাজও খুব কঠিন। আপনাদের এ রকম অনেক কষ্টের মধ্যদিয়ে যেতে হবে। তবে আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা আছি। কতটুকু পারব জানি না। তবে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আমরা আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’
কিছুদিন আগে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে একটি ইনোভেশন ইভেন্ট ছিল। আমরা ছোটবেলায় সাইন্স ফেয়ার বলতে যা বুঝেছি অনেকটা ওরকম। বিভিন্ন স্কুলের বাচ্চারা সারা দেশ থেকে এসে সেখানে অংশ নেয়। তারা তাদের বানানো নানা প্রজেক্ট উপস্থাপন করে। কিছুদিন আগে আরেকটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। সেখানে সারা দেশের প্রাইমারি স্কুলের ২২ লাখ শিশু বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণ করে, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বললেন, ‘রাজনীতির কারণে মাঝে মাঝেই হতাশ হয়ে যাই। কিন্তু এ দুটি অনুষ্ঠান দেখার পর, সেই বাচ্চাগুলোকে দেখার পর আমার সে হতাশা কেটে গেছে। আমার নিজেকে অনেক আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে। আর আজ আপনাদের বক্তব্য শুনে ও আপনাদের কাজ দেখে আমার আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে গেছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী মিলনায়তনে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তরুন উদ্যোক্তাদের সাফল্য এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশে স্টার্টআপ ইকো সিস্টেম ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ওপর তৈরি বিশেষ অডিও ভিজ্যুয়াল উপস্থাপন করা হয়।
বাংলাদেশ মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে চারজন স্টার্টআপ উদ্যোক্তা তাদের যাত্রা শুরুর গল্প তুলে ধরেন। এরা হলেন, ‘শেয়ার ট্রিপ’ এর সিইও‘র সাদিয়া হক, ‘চর্চা‘র প্রতিষ্ঠাতা রায়হানুল ইসলাম, ‘রাফিয়া ফ্যাশন হাউজ’ এর প্রতিষ্ঠাতা লুৎফুন্নেসা মেঘনা, এগ্রি ট্যাক কোম্পানি ‘আই ফার্সা’র সিইও ফাহাদ ইফাজ।
অনুষ্ঠানে রাফিয়া ফ্যাশন হাউজের প্রতিষ্ঠাতা লুৎফুন্নেসা মেঘনা তার নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুদান প্রাপ্তির আবেদনের কথা প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করলে প্রধানমন্ত্রী সেই অনুদান প্রদানের কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় পর্বে ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নপর্ব। এই পর্বে ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নুসরাত জাহান, মেহরাব আনোয়ার, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাজমুল ইসলাম নাফিউ, আসিফ আজাদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাহিদ হোসেন, ইউনিভার্সিটি অব প্রফোশনালসের আদনান সাবাব আজাদ, মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির নাফিসা তাসকিন জাহারা, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামিয়া তাহসিন প্রমুখ শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তার জবাব দেন।
অনুষ্ঠানে চর্চার নাফিস রায়হান, রেনোভা বায়োট্যাকর সাজিদুল ইসলাম ও ফ্যাশন হাউজের লুৎফুন্নেসা মেঘলা প্রত্যেকের হাতে ১০ লাখ টাকা, ইন্টারভিউ বস এআই‘র শারমিন আখতার, বার্জ শিল্ড‘র নিশাদ জাহান ও নিউজ ফেভার এল : ধীরন রায় প্রত্যেকের হাতে ৫ লাখ টাকা এবং ‘কারেক্ট’র হাতে ১ লাখ টাকার অনুদানের চেক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামসহ উপ-উপাচার্যরা প্রধানমন্ত্রীকে ক্রেস্ট উপহার দেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ‘জাতীয় স্টার্টআপ ও তরুণ উদ্যোক্ত প্লার্টফর্মের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।





