উজিরপুরে নৌকাবাইচ দেখতে লাখো মানুষের ঢল

ছবি: আগামীর সময়
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ ঘিরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে বরিশালের উজিরপুরের সন্ধ্যা নদীর তীরে। আজ শনিবার বিকেলে ‘উজিরপুর নৌকাবাইচ’ দেখতে নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক মানুষ। আটটি বাচারি নৌকার ছন্দময় বৈঠা চালনা, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই আর দর্শকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে নদীতীর। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সন্ধ্যা নদীর লাজারেস ফলিয়ার দল। বিষখালী নদীর পরিতোষ বালার দল প্রথম রানার্সআপ এবং সুগন্ধা নদীর সমীর সেনের দল দ্বিতীয় রানার্সআপ হয়েছে।
শনিবার বিকেল তিনটায় উপজেলার শিকারপুর কলেজের সামনে থেকে নৌকাবাইচ শুরু হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর এম এ জলিল সেতুতে গিয়ে প্রতিযোগিতা শেষ হয়। উদ্বোধন করেন বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। পরে সেতুর ইছলাদী প্রান্তে অনুষ্ঠিত হয় সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
উপজেলা প্রশাসন ও উন্নয়ন সংস্থা আভাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) খলিল আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান ও আভাসের অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম। জাতীয় জাদুঘর ও ইউনেসকো এ আয়োজনে সহযোগিতা করে।
আয়োজকেরা জানান, প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া আটটি নৌকাকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। প্রতি গ্রুপে চারটি করে নৌকা প্রথম রাউন্ডে অংশ নেয়। দুই গ্রুপের প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী চারটি নৌকা ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ফাইনালে প্রতিটি নৌকার জয়ের লড়াই ঘিরে দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলে শিরোপা জিতে নেয় সন্ধ্যা নদীর লাজারেস ফলিয়ার দল।
বরিশাল বিভাগের আটটি নদীর নামে নৌকাগুলোর নাম রাখা হয়। এগুলো হলো—কীর্তনখোলা, সুগন্ধা, আড়িয়াল খাঁ, সন্ধ্যা, ধানসিঁড়ি, তেঁতুলিয়া, পায়রা ও বিষখালী। এতে গোপালগঞ্জ ও মাদারীপুর জেলার বিভিন্ন দলের প্রতিযোগীরা অংশ নেন।
বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু বলেন, নদীকেন্দ্রিক লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে নৌকাবাইচের ঐতিহ্য তুলে ধরতেই এ আয়োজন। স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতা রূপ নেয় মিলনমেলায়। নদীর দুই পাড়ে মানুষের উপস্থিতি আর উৎসবমুখর পরিবেশে প্রাণ ফিরে পায় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন।




