আলফাডাঙ্গার মধুমতিতে বিলীন আশ্রয়ণের ২২৫ ঘর
‘নদী আমাদের সব কেড়ে নিয়ে নিঃস্ব করে দিয়েছে’

আলফাডাঙ্গার টগরবন্ধ ইউনিয়নের চাপুলিয়া গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২২৫টি ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ছবি: আগামীর সময়
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মধুমতি নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে উপজেলার টগরবন্ধ ইউনিয়নের চাপুলিয়া গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২২৫টি ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে আরও প্রায় ২০০টি ঘর। যেকোনো সময় এসব ঘরও নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখেছেন আগামীর সময়ের প্রতিনিধি। সরেজমিনে তিনি দেখেছেন, ঘর হারিয়ে অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে কিংবা পলিথিনের অস্থায়ী ছাউনি টানিয়ে দিন কাটাচ্ছে। জায়গার সংকটে একই ছাউনির নিচে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি নিয়ে থাকতে হচ্ছে অনেককে। ঘর হারানোর পাশাপাশি দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট।
নদীতে ঘর হারানো সাইফুল ইসলাম বললেন, ‘আমি দিনমজুর। অভাবের সংসার। সরকার ঘর দেওয়ায় মাথা গোঁজার একটি ঠাঁই পেয়েছিলাম। এখন নদী আমাদের সব কেড়ে নিয়ে নিঃস্ব করে দিয়েছে।’
স্থানীয়রা জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের জীবিকা ও আমিষের চাহিদা মেটাতে প্রকল্পের পাশে একটি পুকুর দেওয়া হয়েছিল। নদীর তীব্র স্রোতে পুকুরটির পাড়ও এখন বিলীন হয়ে গেছে।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশ দিয়ে মধুমতি নদী থেকে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। গত ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশ ও তীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পে শত শত ভূমিহীন পরিবার বসবাস করে আসছিল। তাদের অধিকাংশেরই ঘরটি ছাড়া অন্য কোনো সম্বল নেই। ঘর হারিয়ে এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে পড়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা রাজিব বললেন, ‘আমাদের ঘরবাড়ি তো গেছে। এখন শুধু জীবনটা বাকি আছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বাকি ২০০টি ঘরও রক্ষা করা যাবে না।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কে এম রায়হানুর রহমান জানিয়েছেন, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। জরুরিভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে ভাঙন রোধে জিওব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করা হবে।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন জানিয়েছেন, ভাঙনকবলিত এলাকায় জিওব্যাগ ফেলা হবে। তবে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে সময় লাগবে।




