গঙ্গাচড়া
‘চারিপাশে মঙ্গা লাগছে ব্যাহে, গরুগুলা কি খাওয়াই?’

৭০ বছর বয়সী আব্দুল হালিম
‘চারিপাশে মঙ্গা লাগছে ব্যাহে, গরুগুলাক কি খাওয়াই? পোয়ালের যে দাম!’ আক্ষেপের সুরে কথাগুলো বলছিলেন ৭০ বছর বয়সী আব্দুল হালিম। চারটি গরুর খাবার জোগাতে প্রতিদিনই ছুটতে হচ্ছে জলাশয়ে। সেখান থেকে কচুরিপানা কেটে বাঁশের ভারে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়লেও গরুগুলোর খাবার জোগাড়ে থেমে নেই তার সংগ্রাম।
আজ শনিবার দুপুরে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের বড়বিল মন্থনা ব্রিজসংলগ্ন একটি জলাশয়ে দেখা যায় এমন চিত্র।
বড়বিল চওড়াপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল হালিম তখন জলাশয় থেকে কচুরিপানা সংগ্রহ করছিলেন। আশপাশে সবুজ মাঠ, সড়কে চলছিল যানবাহন। এরই পাশে দাঁড়িয়ে গরুর খাবারের জন্য কচুরিপানা কাটছিলেন তিনি।
কেন কচুরিপানা কাটছেন, জানতে চাইলে আব্দুল হালিম বলেন, ‘চারিপাশে মঙ্গা লাগছে ব্যাহে, গরুগুলা কি খাওয়াই? পোয়ালের যে দাম! এলাং (এখনো) ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয় নাই। নয়া পোয়ালও (খড়) পাওয়া যায় না। বাধ্য হওয়া গরুগুলার জন্যে কচুরিপানা কাটোং। গরুগুলা ওগুলা খায়।’
আব্দুল হালিমের কথায় উঠে আসে গবাদিপশুর খাবার নিয়ে গ্রামীণ জনপদের সংকটের চিত্র। চারটি গরু লালন-পালন করতে গিয়ে এখন খাবার জোগাড় করাই তার বড় চিন্তা। মাঠে নতুন ধান কাটা ও মাড়াই শুরু না হওয়ায় খড়ের সরবরাহ কম। অন্যদিকে বাজারে যে খড় পাওয়া যাচ্ছে, তার দামও বেশি। ফলে বাধ্য হয়ে গরুর খাবার হিসেবে বেছে নিয়েছেন জলাশয়ের কচুরিপানা।
৭০ বছর বয়সেও গরুগুলোর খাবারের ব্যবস্থা করতে নিজেকেই করতে হচ্ছে কঠোর পরিশ্রম। জলাশয় থেকে কচুরিপানা কাটা, সেগুলো একত্র করে বোঝা বানানো এবং বাঁশের ভারে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া—সবই তার প্রতিদিনের কাজ। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়লেও গবাদিপশু লালন-পালনের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াননি তিনি।
এদিকে কচুরিপানা গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা গেলেও এ ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহফুজুর রহমান আগামীর সময়কে বলেন, ‘কচুরিপানা গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তবে পরিষ্কার ও দূষণমুক্ত জলাশয় থেকে সংগ্রহ করতে হবে। ভালোভাবে পরিষ্কার করে পরিমাণমতো অন্য খাদ্যের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ানো উচিত। অতিরিক্ত খাওয়ানো ঠিক নয়।’



