একটি ঘরের অপেক্ষায় ১০১ বছরের সখিনা বেগম, মিলবে কবে?

১০১ বছর বয়সী সখিনা বেগম
টানা কয়েক দিনের অবিরাম বৃষ্টিতে ভেঙে পড়া একটি জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবন কাটছে বাগেরহাটের রামপালের মানিকনগর গ্রামের ১০১ বছর বয়সী সখিনা বেগমের।
টিনের ছাউনি চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ছে। মেঝেজুড়ে কাদা আর স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া এই শতবর্ষী নারী শুধু একটি নিরাপদ আশ্রয়ের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তার চাওয়া খুব সামান্য—মাথা গোঁজার মতো একটি শুকনো ঘর, দুবেলা খাবারের নিশ্চয়তা আর সামান্য মানবিক সহমর্মিতা। অথচ সেই ন্যূনতম চাহিদাটুকুও আজ তার কাছে অধরা।
সরেজমিন দেখা যায়, সখিনা বেগম যে ঘরে বসবাস করেন, সেটি দীর্ঘদিন ধরেই বসবাসের অনুপযোগী। টিনের চালার বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। মেঝেতে জমে থাকে কাদা ও পানি। আবার রোদ উঠলে চালার ফাঁক দিয়ে সরাসরি রোদ ঢুকে পড়ে ঘরের ভেতরে। এমন অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই দিন কাটছে তার।
স্বামী ও সন্তানহীন সখিনা বেগম বর্তমানে মেয়ের পরিবারের সঙ্গে থাকেন। তবে মেয়ের পরিবারও চরম দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ভিক্ষা করেই তাদের সংসার চলে। টানা বৃষ্টির কারণে কয়েক দিন ধরে বাইরে যেতে না পারায় দেখা দিয়েছে খাদ্যসংকট। অনেক সময় চুলাও জ্বলে না।
কাঁপা কণ্ঠে সখিনা বেগম বললেন, আমি খুব কষ্টে আছি বাবা। একটা থাকার মতো ঘর পেলে শেষ বয়সটা একটু শান্তিতে কাটাতে পারতাম। বৃষ্টি হলে ঘরে থাকা যায় না, খুব কষ্ট হয়।
তার মেয়ের ভাষায়, মা বয়স্কভাতা হিসেবে ১ হাজার ৫০০ টাকা পান। কিন্তু এই টাকা দিয়ে ওষুধ, খাবার আর সংসারের খরচ চালানো সম্ভব হয় না। আমরা খুব অসহায় অবস্থায় আছি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ১০১ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধার এমন দুর্দশা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের প্রতি দ্রুত সখিনা বেগমের জন্য একটি নিরাপদ ঘর, প্রয়োজনীয় খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ তামান্না ফেরদৌসী বললেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খুব দ্রুত ঘটনাস্থলের খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সখিনা বেগমকে সরকারি সহায়তার আওতায় আনার বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তার জন্য একটি নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। একজন শতবর্ষী মানুষ যেন মানবিক পরিবেশে সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।





