২০ হাজারে শিশু বিক্রি, উদ্ধার ৩

ছবি: আগামীর সময়
রেলওয়ে স্টেশনের চেনা কোলাহল আর মানুষের ব্যস্ততার আড়ালে গড়ে উঠেছিল এক ভয়ংকর অন্ধকার জগৎ। যেখানে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হতো শিশু। শিশুদের বিক্রি ও অপহরণ করে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করার এমনই এক ভয়ানক চক্রের সন্ধান পেয়েছে খুলনা রেলওয়ে জেলা পুলিশ। চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার এবং অপহৃত তিন শিশু উদ্ধারও করা হয়েছে।
আজ সোমবার বিকালে কুষ্টিয়ার পোড়াদহ রেলওয়ে সার্কেল অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে খুলনা রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপার আহমদ মাইনুল হাসান এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার জানান, গত ২৭ এপ্রিল পোড়াদহ রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে ১০ বছরের শিশু সিফাত ও ৯ বছরের মোমিন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়। সুকৌশলে তাদের অপহরণের পর মহানন্দা লোকাল ট্রেনে করে যশোরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মাত্র ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে শিশু দুটিকে শাহনাজ বেগম নামের এক নারীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। চক্রটির মূল উদ্দেশ্য ছিল, বিভিন্ন রেলস্টেশন ও জনসমাগমস্থলে শিশুদের নামিয়ে জোরপূর্বক ভিক্ষা করানো।
এদিকে সন্তান হারিয়ে দিশাহারা সিফাতের মা শেফালী আক্তার গত ৬ জুন রাতে পোড়াদহ রেলওয়ে থানায় একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার উত্তর কাটদহ এলাকার ফতে আক্তার (২১) নামের এক তরুণীর বিরুদ্ধে সন্দেহ পোষণ করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই খুলনা রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপার আহমদ মাইনুল হাসানের নির্দেশে কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম ও এসআই মো. শামীম হোসেনের নেতৃত্বে মাঠে নামে পুলিশের বিশেষ দল। স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত ফতে আক্তারকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অপরাধ স্বীকার করলে শুরু হয় পুলিশের উদ্ধার অভিযান।
ফতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুষ্টিয়ার মিরপুর, ভেড়ামারা, যশোর এবং ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে চালানো হয় অভিযান। এতে চক্রের আরেক সদস্য শাহনাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া কমলাপুর স্টেশন থেকে উদ্ধার করা হয় আরও তিন পথশিশুকে। যাদের এই চক্রটি ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করছিল।
উদ্ধার হওয়া শিশুদের বর্তমানে ‘লিডো’ (লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন) নামের একটি পুনর্বাসন সেন্টারের সেফ হোমে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের অভিভাবকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আহমদ মাইনুল হাসান বললেন, শিশু পাচার ও জোরপূর্বক ভিক্ষাবৃত্তির মতো জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করছি।
একই সঙ্গে তিনি রেল যাত্রী ও অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।




