স্কুলশিক্ষকের ছাদবাগানে ৪০ জাতের আম

ছবি: আগামীর সময়
কোনো গাছে ঝুলছে 'থ্রি টেস্ট', কোনোটিতে আবার 'আমেরিকান রেড পালমার'। আছে মিয়াজাকি, নামডকমাই, আম্রপালি—পরিচিত-অপরিচিত নানা নাম ও জাতের আম। ছোট একটি ছাদকে আমবাগানে পরিণত করেছেন মুন্সীগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার স্কুলশিক্ষক আবিদ হাসান সম্রাট।
শখ ও সৌখিনতায় উপজেলার আব্দুল্লাপুরে তার গড়ে তোলা এক ছাদবাগানেই এখন রয়েছে ৪০ জাতের আমগাছ। মধুমাস জ্যৈষ্ঠে গাছে গাছে এখন আমের দেখা।
আবিদ হাসান সম্রাট জানান, শিক্ষার্থীদের পাঠদান শেষে অবসরের বেশিরভাগ সময়ই তিনি কাটান নিজের ছাদবাগানে। গাছের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই ২০২১ সালে কয়েকটি আমগাছ দিয়ে শুরু হয়েছিল তার যাত্রা। ধীরে ধীরে সংগ্রহ করেছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং বিদেশি জাতের আমের চারা।
শনিবার (৬ জুন) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, ১৪০০ স্কয়ার ফুট আয়তনের ছাদের ওপর সারিবদ্ধ টবে রঙিন ও বাহারি আমের সমারোহ। বিভিন্ন রং ও আকৃতির একেকটি আমের ওজন ছোট থেকে ২-আড়াই কেজি পর্যন্ত। গাছ ঘুরে দেখানোর পাশাপাশি নামগুলোও জানান শিক্ষক সম্রাট।
তার সংগ্রহে রয়েছে আলফোনসো, সুপার জলি, নামডকমাই শ্রীমুয়াং, ভেনাস, কিউজাই, জাপানি মিয়াজাকি, কিং অব চাকাপাত, ব্রুনাই কিং, নামডকমাই শ্রীথং, হিমসাগর, হাড়িভাঙা, আম্রপালি-৮, তাইওয়ান রেড, নামডকমাই প্রিপডং, জি শি, অ্যাপল ম্যাংগো, বিএন-৭, হানি ডিও, আম্রপালি-১০, গৌরমতী, অম্বিকা, বারি-৪, বারি-১১, বারি-১৩, নাক ফজলি, কাটিমোন, জাম্বুরা ম্যাংগো, থ্রি টেস্ট, আমেরিকান রেড পালমার, ফ্রুট ককটেল, ইলেভেন শাই, ব্যানানা ম্যাংগো, রেড আইভরি/চিয়াংমাই, ফোর কেজি, ফ্রুট পাঞ্চ, কেশর ও সিন্ধি প্রজাতির আমগাছ। প্রায় সবগুলোতেই ধরেছে আম।
আগামীর সময়কে সম্রাট জানান, প্রতিটি গাছের যত্ন তিনি নিজ হাতে নেন। নিয়মিত পানি দেওয়া, ছাঁটাই, জৈব সার প্রয়োগ এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে গাছগুলোকে সুস্থ রাখেন।
বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আমগাছ নিয়ে পর্যালোচনা করছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান ২০০-৩০০ প্রজাতির আমগাছ নিয়ে কাজ করছে। তিনি মূলত এসব প্রতিষ্ঠান থেকেই গাছগুলো সংগ্রহ করছেন। প্রথম পর্যায়ে ফলসহ গাছ ক্রয় করলেও বর্তমানে তিনি খরচ সাশ্রয়ের জন্য ছোট চারা কিনে পরিচর্যার মাধ্যমে উৎপাদন করে থাকেন, যোগ করেন তিনি।
এদিকে বাগানটি দেখতে প্রতিদিনই আসেন আশপাশের মানুষ, শিক্ষার্থী ও ফলপ্রেমীরা। অনেকেই ছাদবাগান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের বাসাবাড়িতেও ফলের গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন।
শিক্ষক সম্রাটের বাবা বাবু বেপারী বললেন, আমার জীবনে কখনো এত ধরনের আম একসঙ্গে দেখিনি। আমার ছেলে এটি করেছে। ছাদে আসলে ভালো লাগে, আমগাছ দেখি আবার খেতেও পারি।
শিক্ষক সম্রাটের ছাত্র তুরান সরকার। বাবু বেপারীর মতো তিনিও ছাদের ওপর এমন আয়োজনে চমৎকৃত। তার ভাষ্য, আসলে আমরা ফজলি, হাড়িভাঙা এসব আমই চিনতাম। আমের যে এত প্রকার আছে, তা এখানে এসেই জানতে পারছি। আমাদের অনেক সহপাঠী এখন স্যারকে দেখে আমের চারা রোপণ করছে।
ভবিষ্যতে আরও প্রজাতি সংগ্রহের কথা জানিয়ে সম্রাট জানালেন, আমার ইচ্ছে গাছের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা। আর ছাত্র-ছাত্রীরা চাইলে এখন থেকে দেখে নিজ আঙিনাতেও এমন বাগান করতে পারবে। আসলে কতটাকা খরচ হয়েছে তার হিসাব নেই, কারন সখ করে করেছি। তবে বর্তমানে বিপুল পরিমান টাকার আম উৎপাদন হচ্ছে।
টংগিবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পৃতীশ চন্দ্র পালের ভাষ্য, নিজেই উৎপাদন করে পরিবারকে বিষমুক্ত ফল উপহার দেওয়া দারুণ বিষয়। এ ধরনের বাগান করতে আমরা উৎসাহ দেই। ৪০ ধরনের আম নিয়ে ছাদবাগান করা এই স্কুলশিক্ষক যদি কোনো প্রয়োজনে কৃষি অফিসের সহায়তা চান তাহলে অবশ্যই তাকে সহায়তা করা হবে।




