বিশ্বমানের ফায়ার সার্ভিস গড়তে চায় সরকার, বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি: আগামীর সময়
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, সেবার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যাতে সহজে, স্বচ্ছতার সঙ্গে ও প্রত্যাশিত মানে সেবা পেতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট নগরের তালতলায় সিলেট সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের নির্মাণকাজ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বললেন, ফায়ার সার্ভিসের সেবাপ্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি ফায়ার সার্ভিসের সেবার মান উন্নয়ন ও প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে কাজ করছেন।
তিনি মত দেন, বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে নাগরিক সুবিধা ও সেবার মানও আধুনিক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। সিলেট এমন একটি শহর, যার বিপুলসংখ্যক মানুষ দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত। তাই এ শহরের নাগরিকদের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা জরুরি।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উল্লেখ করলেন, বাংলাদেশ আর তিন বছর পর স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ করবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে দেশের নাগরিকসেবা ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সিলেটে জনসংখ্যা ও বসতির ঘনত্ব যেভাবে বাড়ছে, সে তুলনায় আধুনিক নাগরিকসেবার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে।
তিনি আরও বলেছেন, সিলেট ও এ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ দেশের বাইরে বসবাস করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকসেবা ও সুযোগ-সুবিধার সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ পরিচয় রয়েছে। এমন একটি শহরে নাগরিকসেবা কাঙ্ক্ষিত মানে না থাকলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণে আধুনিক ও নিরাপদ নগর গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে গুরুত্ব দিতে হবে।
সিলেট সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের নির্মাণকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বললেন, প্রকল্পটি ১৫ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনোভাবেই এ সময়সীমা ব্যাহত করা যাবে না। কারণ, এই প্রকল্পের সঙ্গে পুরো জনপদের নিরাপত্তা জড়িত।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, বাহিনীর সদস্যরা মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সময় তাঁদের প্রাণও দিতে হয়। তাঁদের শ্রম, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে ঝুঁকি নিয়ে বাহিনীর সদস্যরা মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় কাজ করেন।
তিনি ইতিহাস তুলে ধরলেন, ১৯৩৯-৪০ সালের দিকে ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রমের সূচনা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরবর্তী সময়ে ১৯৮১ সালে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সিভিল ডিফেন্স যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়।
সিসিক প্রশাসক আরও বলেছেন, বর্তমান সময়ে বাণিজ্যিক ভবন, কলকারখানা ও আবাসিক স্থাপনাসহ নগর জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাহিনীর সদস্যরা সামনের সারিতে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেকে প্রাণও দিয়েছেন।
তিনি বললেন, সিলেটে ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নতুন স্টেশনটি চালু হলে নগরবাসীর জরুরি নিরাপত্তাসেবা আরও শক্তিশালী হবে। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথি ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী ওয়াসিফ আহমদ।
অনুষ্ঠানে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইন, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।



