সান্তাহারের শতবর্ষী কালভার্ট এখন মরণফাঁদ

ছবি: আগামীর সময়
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌরসভার বটতলির মোড়ে অবস্থিত শতবর্ষী একটি কালভার্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ও জরাজীর্ণ এই কালভার্টের ওপর দিয়ে প্রতিদিন দিন-রাত হাজারো যানবাহন চলাচল করছে। যেকোনো সময় কালভার্টটি ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ অবস্থায় দ্রুত পুরোনো কালভার্টটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তান আমলে সান্তাহার জংশন শহরের সঙ্গে নওগাঁ জেলা শহরের যোগাযোগের জন্য প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়। শহরের পানি নিষ্কাশনের জন্য সড়কটির সান্তাহার অংশের বটতলির মোড় ও পশ্চিম ঢাকা রোড এলাকায় দুটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছিল।
এর মধ্যে ২০২৩ সালে পশ্চিম ঢাকা রোডের কালভার্টটি ভেঙে পড়ে। পরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সাময়িকভাবে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সেখানে একটি বেইলি সেতু নির্মাণ করে। সে সময় সান্তাহার নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে দুর্ঘটনা এড়াতে বটতলির মোড়ের কালভার্টটিও ভেঙে নতুন করে নির্মাণের দাবি জানানো হয়। সওজ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, ব্রিটিশ আমলে সান্তাহার জংশন শহর থেকে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা পর্যন্ত পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে ১৯৬৭-৬৮ সালে সড়কটি আধুনিকায়ন করা হয়। সে সময় পানি নিষ্কাশনের জন্য সড়কের বিভিন্ন স্থানে একাধিক কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে অধিকাংশ কালভার্ট ভেঙে প্রশস্ত ও নতুন করে নির্মাণ করা হলেও বটতলির মোড়ের কালভার্টটি পুরোনো অবস্থায় রয়ে গেছে।
সওজ বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, বটতলির মোড়ের কালভার্টটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে।
সান্তাহার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোরশেদ খান বলেন, তিনি চেয়ারম্যান থাকাকালে কালভার্টটি নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু সড়কটি সওজ বিভাগের অধীন হওয়ায় পৌরসভার পক্ষে তা নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। পরে এ বিষয়ে সওজ বিভাগের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি।
সান্তাহার শহরের অটোরিকশা শ্রমিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান বলেন, প্রতিদিন এই জরাজীর্ণ কালভার্টের ওপর দিয়ে অসংখ্য যানবাহন নওগাঁর দিকে চলাচল করে। এর ওপর দিয়ে ভারী যানবাহনও চলাচল করে। কালভার্টটি অত্যন্ত পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যেকোনো সময় ভেঙে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি দ্রুত এটি ভেঙে নতুন কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানান। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদারের হস্তক্ষেপও কামনা করেন তিনি।
সান্তাহার নাগরিক কমিটির সভাপতি চিকিৎসক হামিদুর রহমান বলেন, কালভার্টটির ঝুঁকির বিষয়টি আগেও নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে সওজ বিভাগকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এটি মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। একই সময়ে নির্মিত পশ্চিম ঢাকা রোডের কালভার্টটি ইতিমধ্যে ভেঙে পড়েছে। তাই দ্রুত বটতলির মোড়ের কালভার্টটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে শনিবার দুপুরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বগুড়া সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেদুল হক বলেন, কালভার্টটি পরিদর্শনের জন্য তাদের দপ্তর থেকে দ্রুত লোক পাঠানো হবে। এ সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হবে।
বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার বলেন, কালভার্টটির বিষয়ে জানার পর দ্রুত নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আশা করছেন, অল্প সময়ের মধ্যেই সমস্যার সমাধান হবে।




