৯৬ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক ছাড়া
- পাথরঘাটায় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার ৬ পদের বিপরীতে আছেন একজন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরগুনার উপকূলীয় উপজেলা পাথরঘাটায় প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় বড় সংকট জনবল। প্রধান শিক্ষকের অভাব, মাঠপর্যায়ে তদারকির জন্য প্রয়োজনীয় কর্মকর্তার ঘাটতি এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থার কারণে শিক্ষার মান নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদের। ১৬ হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের সংশয়ে রয়েছেন তারা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য বলছে, সাতটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত পাথরঘাটায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৪৯টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ১৬ হাজার ১১২ জন। এর মধ্যে ৯৬টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, যা মোট বিদ্যালয়ের প্রায় ৬৫ শতাংশ। এসব বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা।
শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয়ে পূর্ণ ক্ষমতা না থাকায় বিলম্বিত হচ্ছে বিদ্যালয়ের অনেক সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শ্রেণিকক্ষে কমে যাচ্ছে পাঠদানের সময়ও। ফলে পাঠদান এবং বিদ্যালয় পরিচালনা— দুই ক্ষেত্রেই পড়ছে প্রভাব।
শুধু বিদ্যালয়ে নয়, মাঠপর্যায়ে তদারকি ব্যবস্থাতেও রয়েছে বড় ধরনের সংকট। উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ রয়েছে ছয়টি। তবে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। তাকেই পালন করতে হচ্ছে উপজেলার ১৪৯টি বিদ্যালয়ের তদারকির দায়িত্ব।
‘ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে একটি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা অসম্ভব। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত তদারকি না থাকলে জবাবদিহিও হয়ে পড়ে দুর্বল’— বললেন মির্জা সহিদুল ইসলাম। তার আশঙ্কা, দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ না হলে গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস জানায়, তিন বছর আগে পাথরঘাটায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষার্থী ছিল ১৬ হাজার ২১৯ জন। বর্তমানে সেই সংখ্যা নেমেছে ১৬ হাজার ১১২ জনে। অর্থাৎ তিন বছরে শিক্ষার্থী কমেছে ১০৭ জন। অবশ্য নন-ক্যাডার থেকে প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান থাকার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফর মো. সালেহ।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার আশা, নিয়োগ ও পদায়ন শেষ হলে বিদ্যালয় পরিচালনা এবং মাঠপর্যায়ের তদারকিতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা কমে আসবে অনেকটাই।




