সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ১০ লাখ টাকায় মীমাংসার চেষ্টা, সালিশের পর নিখোঁজ তরুণী

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ময়মনসিংহে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয়ভাবে সালিশ বসিয়ে ১০ লাখ টাকায় মীমাংসার অভিযোগ উঠেছে। সালিশের পর থেকেই ১৯ বছর বয়সী ওই তরুণী নিখোঁজ। জানা যায়, সালিশে ভুক্তভোগীকে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে তরুণীর বর্তমান অবস্থান এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগ, গত ৩১ জুলাই রাতে নান্দাইলে একটি বাড়িতে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়। পরদিন তার পরিবারের পক্ষ থেকে নান্দাইল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, থানায় যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার সময় তরুণীকে জোর করে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে রাখা হয়। পরে তার সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। এরই মধ্যে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি দাবি করেন, সালিশের মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, পুরো বিষয়টি ১০ লাখ টাকায় রফাদফার চেষ্টা করা হয় এবং বাকি টাকা সালিশকারীদের কাছে রয়েছে।
ভুক্তভোগীর এক স্বজনও সালিশের কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেছেন, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাদের পক্ষ থেকে সাংবাদিক, থানা ও কাজীর মাধ্যমে বিষয়টি মিটমাট করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
স্থানীয়রা জানান, ওই সালিশে ফজলু, রাজ্জাক, কাসেম, অলি মেম্বার, মোসলেমসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। ফজলু সালিশে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করে বলেছেন, তিনি সেখানে দর্শক হিসেবে ছিলেন এবং কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্ত ছিলেন না। অলি মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
নান্দাইল মডেল থানার ওসি মো. আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত করেছে। তদন্তে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত সম্পর্কসংক্রান্ত কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। পরে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা যায়।’
ওসি বলেন, ‘ভুক্তভোগীর বক্তব্য ছাড়া অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সীমিত হয়ে পড়ে। তার সন্ধানে পুলিশ কাজ করছে। স্থানীয়ভাবে সালিশের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’







