চিংড়ি ঘের দখলে রাতভর গুলিবর্ষণ, আহত ২

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কক্সবাজারের পেকুয়ায় চিংড়ি ঘের দখলকে কেন্দ্র করে রাতভর দফায় দফায় ঘটেছে গুলিবর্ষণ। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন দুইজন। এ সময় ঘেরের বসতঘরে ভাঙচুর ও মাছ লুটের অভিযোগও উঠেছে। ঘেরসংশ্লিষ্টদের দাবি, হামলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে লক্ষাধিক টাকার।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) রাত ১টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত উপজেলার দরদরী ঘোনা, রকিতদিয়া ও মটকাভাঙা এলাকায় ঘটে এ ঘটনা। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতভর এলাকায় একাধিকবার গুলির শব্দ শোনা যায়। এ ঘটনায় মৃত ফরিদুল আলমের ছেলে বাবুল (৪০) গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন দিলোয়ারা বেগম নামে এক নারী।
চিংড়ি ঘেরসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ একটি দল অস্ত্র নিয়ে ঘেরে হামলা চালিয়ে দখলের চেষ্টা করে। এ সময় কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণের পাশাপাশি প্রজেক্টের বসতঘরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। হামলাকারীরা ঘের থেকে প্রায় ৬৫ কেজি চিংড়িসহ বিভিন্ন মাছ নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বিরোধপূর্ণ মৎস্য প্রজেক্টের আওতায় মোট ২৭৮ খানি জমি রয়েছে। এর মধ্যে ১৯৭ খানি জমি ক্রয় ও বর্গা সূত্রে শাহাজাহান মিয়াসহ অন্যরা ভোগদখলে রয়েছেন। মাহমুদুল হক ও আবু ছিদ্দিক বর্গা নিয়েছেন ৪৫ খানি জমি। বাকি জমি খাস হিসেবে প্রজেক্টের বাইরে রয়েছে। বর্তমানে প্রজেক্টটি শাহাজাহান মিয়াসহ জমির মালিকদের দখলে রয়েছে বলে দাবি তাদের।
জমির মালিক শাহাজাহান মিয়ার অভিযোগ, জমি ও চিংড়ি ঘের নিয়ে আমিন শরীফের ছেলে মাহমুদুল হক এবং আবদুল বারির ছেলে আবু ছিদ্দিকের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।
তার ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাতে সংঘবদ্ধভাবে লোকজন নিয়ে চিংড়ি ঘের দখলের চেষ্টা চালান প্রতিপক্ষ। এ সময় গুলিবর্ষণ, ভাঙচুর ও মাছ লুট করা হয়। বাধা দিতে গেলে আহত হন দুজন।
শাহাজাহান মিয়ার দাবি, প্রজেক্টের জমি নিয়ে মাহমুদুল হক এর আগে চুক্তিপত্রের মাধ্যমে পাঁচ বছরের জন্য জায়গা বুঝে নিয়েছিলেন। এরপরও ওই জমি ও চিংড়ি ঘের নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করে দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
চিংড়ি ঘেরের চাষি জয়নাল আবদীন ও মোহাম্মদ হোছাইনের অভিযোগ, আবু ছিদ্দিক ও মাহমুদুল হকের নেতৃত্বে শতাধিক লোক অস্ত্র নিয়ে এলাকায় আসে। গুলি করতে করতে ঘের দখলের চেষ্টা চালায় তারা। এ সময় ভাঙচুর ও লুটপাট করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পেকুয়া থানা-পুলিশের একটি দল। পুলিশের এসআই রিদুয়ান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি প্রাথমিকভাবে তদন্ত করেছেন বলে জানা গেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পেকুয়া থানার ওসি মেহেদী হাসানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কল রিসিভ করেননি তিনি।




