চরফ্যাশনে ট্রলারে বিস্ফোরণে দগ্ধ ৫, সংকটে দুই জেলের জীবন

সংগৃহীত ছবি
ভোলার চরফ্যাশনে মাছ ধরার ট্রলারে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ দুই জেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। পুরো শরীরে ব্যান্ডেজ থাকায় তারা স্বাভাবিকভাবে খাবারও গ্রহণ করতে পারছেন না।
দগ্ধ দুই জেলে হলেন ট্রলারের মাঝি ইসমাইল মাঝি (৩৮) ও জেলে সোহাগ (১৯)। একই ঘটনায় আহত আরও তিন জেলে রাব্বি (১৮), নজু (২৬) ও শামীম (১৯) চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছেন চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে শামীমের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় জেলে মো. মঞ্জু ও ইসমাইল মাঝির স্ত্রীর ভাষ্য, গত শনিবার ভোরে চরফ্যাশনের হাজারিগঞ্জ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মাইনুদ্দিন মাছঘাট থেকে একটি ট্রলার ৯ জন জেলেকে নিয়ে সাগর মোহনার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথে ট্রলারটি সামরাজ ঘাটে নোঙর করে বরফ সংগ্রহ করে। পরে মেঘনা নদীপথে যাত্রাকালে জেলেরা চা তৈরি করে পান করেন।
এরপর ইসমাইল মাঝিসহ পাঁচ জেলে ট্রলারের পেছনের কেবিনে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। অন্য চার জেলে সামনের অংশে অবস্থান করছিলেন। কিছুক্ষণ পর ট্রলারের ভেতরে রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডারটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। সে সময় ট্রলারের ইঞ্জিন চালু থাকায় মুহূর্তেই আগুন পুরো নৌকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে পেছনের কেবিনে থাকা পাঁচ জেলের শরীরে আগুন ধরে যায় এবং তারা গুরুতর দগ্ধ হন। আতঙ্কে এক জেলে নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে ট্রলারে থাকা অন্য জেলেরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে পাঁচজন জেলের শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে পুড়ে যায়।
স্বজনরা জানান, পাশের একটি ট্রলারের সহায়তায় আহতদের প্রথমে নেওয়া হয় কালকিনি চরে। পরে স্পিডবোটে করে মাইনুদ্দিন ঘাটে এনে ভর্তি করা হয় চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ইসমাইল মাঝি, সোহাগ ও শামীমকে ঢাকায় রেফার করা হয়। পরে রবিবার ভোরে ইসমাইল মাঝি ও সোহাগকে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট থেকে ঢাকাগামী লঞ্চে করে পাঠানো হয় রাজধানীতে। বর্তমানে তারা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছেন।
চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, আহত জেলেদের পরিবারের সঙ্গে রাখা হচ্ছে যোগাযোগ এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দেওয়া হবে সহায়তা।






