নেত্রকোনা
ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার আশ্বাসে টাকা আদায়, এনসিপি নেত্রী কারাগারে

গ্রেপ্তার সাদিয়া ইসলাম
নেত্রকোনায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার আশ্বাসে টাকা নেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় সাদিয়া ইসলাম (২৩) নামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেত্রীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নেত্রকোনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহ পরানের আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পৌর শহরের বলাইনগুয়া মীরবাড়ি রোড এলাকার একটি বাসা থেকে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে বুধবার সকালে ভুক্তভোগী প্রিয়া আক্তার তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন।
সাদিয়া সদর উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে। তিনি নেত্রকোনা সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাদিয়া কয়েকজনকে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে টাকা নেন। মঙ্গলবার বিকেলে কুড়পাড় এলাকায় আরও একজনের কাছ থেকে টাকা নিতে গেলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে যায়।
মামলার বাদী প্রিয়া আক্তার বলেন, ‘এনসিপি নেত্রী সাদিয়া আক্তার আমিসহ পাঁচজনকে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে পাঁচ হাজার টাকা করে চান। পরে আমাদের পাঁচজনের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নেন। মঙ্গলবার আমাকে আরও দুই হাজার টাকা দিতে বলেন। তিনি জানান- পরদিনই আমার ফ্যামিলি কার্ড হয়ে যাবে। এভাবে আরও কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নিতে এলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে।’
সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন ফারাস সেন্টু বলেন, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে এনসিপির ওই নেত্রীকে আটকের কথা তিনি শুনেছি। সদর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি।
তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাদিয়ার পক্ষে এনসিপির জেলা কমিটির সদস্যসচিব ফাহিম রহমান খান পাঠান। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। দিয়া চক্রান্তের শিকার। তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হতে পারে।’
নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে সাদিয়াকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
ওসি আরও বলেন, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সাদিয়া কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। মামলার আসামিকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।






