সংরক্ষিত শালগাছের কাঠ সরানোর প্রস্তুতি, প্রশ্নের মুখে বন বিভাগ

নবাবগঞ্জে বন বিভাগের উপজেলা বিট অফিসে সংরক্ষিত সাতটি শালগাছের গোলাই করাতকলে নেওয়ার প্রস্তুতির ঘটনায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ছবি: আগামীর সময়
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে বন বিভাগের উপজেলা বিট অফিসে সংরক্ষিত সাতটি শালগাছের গোলাই (শাল গাছের মোটা কাণ্ড) করাতকলে নেওয়ার প্রস্তুতির ঘটনায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে নবাবগঞ্জ বিট অফিসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অফিসে সংরক্ষিত সাতটি শালগাছের গোলাই একটি ভ্যানে তুলে করাতকলে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এ সময় বিট অফিসের কর্মচারী মো. এরশাদুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন জানান, জাতীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধন উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে রোপণ করা কাঞ্চন ও নিমের চারাগাছের সুরক্ষা ঘেরা তৈরির জন্য খুঁটি বানাতে কাঠগুলো করাতকলে নেওয়া হচ্ছিল।
পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, চারাগাছ দুটি রোপণের পরপরই ঘেরা দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ফলে নতুন করে ঘেরা নির্মাণের জন্য সংরক্ষিত শালগাছের কাঠ করাতকলে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিধান কান্তি হালদার বলেছেন, ‘চারাগাছের ঘেরা নির্মাণের জন্য কাউকে কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।’
নবাবগঞ্জ ফরেস্টের ডেপুটি রেঞ্জার মো. সুলতান মাহমুদ বললেন, ‘বিট অফিসের পাহারাদারের চৌকি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেটি মেরামত বা নতুন চৌকি তৈরির কাজে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে করাতকলে নেওয়া হচ্ছিল।’
সংরক্ষিত শালগাছের কাঠ এভাবে ঘেরা বা অফিসের চৌকি তৈরির কাজে ব্যবহার করা বিধিসম্মত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্বীকার করেন, যে এটি বিধিসম্মত নয়।
বিরামপুর-চরকাই ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলামের ভাষ্য, উপজেলা পরিষদ চত্বরে রোপণ করা গাছের সুরক্ষার জন্য বাঁশের বেড়া দেওয়ার নির্দেশ তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের দিয়েছেন।
একই ঘটনায় বন বিভাগের কর্মচারীদের বক্তব্য, ডেপুটি রেঞ্জারের ব্যাখ্যা, রেঞ্জ কর্মকর্তার বক্তব্য এবং সরেজমিনে পাওয়া তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি দেখা যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সংরক্ষিত সরকারি শালগাছের কাঠ কী উদ্দেশ্যে, কার নির্দেশে এবং কী অনুমতিতে করাতকলে নেওয়া হচ্ছিল—তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।







