বদলির আদেশের পরও থানা ছাড়তে নারাজ ওসি

সংগৃহীত ছবি
বদলির আদেশ আসার দুদিন পেরিয়ে গেলেও দায়িত্ব হস্তান্তরে অস্বীকৃতির অভিযোগ উঠেছে নওগাঁর সাপাহার থানার ওসি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে।
দায়িত্ব হস্তান্তর-সংক্রান্ত জটিলতায় থানায় ওসির পদ শূন্য থাকায় থমকে গেছে পুরো থানার প্রশাসনিক ও আইনি কার্যক্রম।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নতুন কোনো কর্মকর্তা দায়িত্বে না বসায় থানায় জরুরি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্বের ওসি মিজানুর রহমানকে জয়পুরহাট জেলায় বদলি করা হলেও তিনি সদ্য যোগদান করা নতুন ওসি শাহীন রেজাকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি। রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আশিক সাঈদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে গত ৬ সেপ্টেম্বর পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মিজানুর রহমানকে জনস্বার্থে জয়পুরহাটে বদলি করা হয়। আদেশের দুদিন পেরিয়ে গেলেও নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেননি তিনি।
আরেক আদেশে গতকাল (৮ সেপ্টেম্বর) নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শাহীন রেজাকে সাপাহার থানা-পুলিশের ওসি হিসেবে পদায়ন করেন। নতুন ওসি শাহীন রেজা গতকাল থেকে থানায় থাকলেও বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না তার দায়িত্ব। দায়িত্ব হস্তান্তর প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় বর্তমানে থানায় প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
সাপাহার গাঞ্জাকুড়ি গ্রামের ষাটোর্ধ্ব আবুল কালাম আজাদ বললেন, ‘সকাল ৯টা থেকে থানায় বসে আছি। বিকাল হয়ে গেল। ওসি নাই বলে কাজ হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়ব।’
সাপাহার পুরনো মুহুরিপট্টি এলাকার শিক্ষার্থী জারিফ বললেন, ‘সকাল ১০টায় জিডি করার জন্য এসেছি। ২টা পর্যন্ত বসে আছি। থানার অবস্থা থমথমে। আগের ওসি নতুন ওসিকে দায়িত্ব বুঝে দেননি। এটা কেমন কথা!’
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে বারবার ফোন করা হলেও সাপাহার থানা থেকে সদ্য বদলি হওয়া ওসি মিজানুর রহমান ফোন ধরেননি।
নতুন যোগদান করতে আসা ওসি শাহীন রেজা বললেন, ‘থানার চার্জ এখনো বুঝে পাইনি। আমি কাল থেকে থানায় আছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরে জানিয়েছি।’
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বললেন, ঊর্ধ্বতন অফিসের আদেশে ওসি মিজানুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে। নতুন করে সেখানে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে আরেক জনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গতকাল রাতে তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তারপরও তিনি সেটি শুনছেন না।






