শেরপুর
খাল দখলে জলাবদ্ধতা, এক দশক ধরে বন্ধ আমন চাষ

বগুড়ার শেরপুরে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কয়েকটি গ্রামের মানুষ, এক দশক ধরে বন্ধ আমন চাষ
সরকারি খাল দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের কারণে বগুড়ার শেরপুরে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কয়েকটি গ্রামের মানুষ। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে মির্জাপুর ও শাহ বন্দেগী ইউনিয়নের ৬-৭টি গ্রামে প্রায় এক দশক ধরে জলাবদ্ধতা রয়েছে। এতে হাজার হাজার বিঘা আবাদি জমিতে আমন ও আউশ চাষ বন্ধ হয়ে গেছে। বর্ষাকালে তলিয়ে থাকে গ্রামের অসংখ্য সড়ক ও বাড়ির উঠোন। দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শেরুয়া বটতলা থেকে ভবানীপুর পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার সড়কের উভয় পাশে থাকা ‘নয়নজালি’ নামের সরকারি খালের বিভিন্ন অংশ দখল করে মিল-কারখানা, চালকল, দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ফলে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে বর্ষা মৌসুমে তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। বছরের দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকছে ফসলি জমি ও চলাচলের রাস্তা।
দড়িমুকন্দ, ফুলতলাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা জানান, আগে এসব এলাকায় তিন ফসলি জমি ছিল। জলাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে জমিতে আউশ ও আমন ধান চাষ করা যাচ্ছে না। এতে কৃষিনির্ভর পরিবারগুলোর আয় কমে গেছে। একসময় যেসব কৃষকের গোলায় ৪-৫০০ মণ ধান থাকত, তাদের অনেকেই এখন সংসার চালাতে দিনমজুরি করছেন।
জলাবদ্ধতার কারণে গবাদিপশু পালনেও বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। চারণভূমি পানিতে তলিয়ে থাকায় গরু-ছাগলসহ গৃহপালিত পশু ২৪ ঘণ্টা গোয়ালে বেঁধে রাখতে হচ্ছে। এ কারণে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে তাদের গবাদিপশু বিক্রি করে দিচ্ছেন।
শুধু কৃষিকাজ নয়, জলাবদ্ধতার কারণে জনজীবনও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বর্ষাকালে শতাধিক চলাচলের রাস্তা পানিতে প্লাবিত থাকে। শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দেয়। স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি জলাবদ্ধ একটি জমিতে পড়ে দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
দড়িমুকন্দ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বাসেদ বলেন, আমাদের বাসার মধ্যে পানি উঠে আছে। নিজেদের যাতায়াতের পাশাপাশি অসুস্থ রোগীদের চলাচলেও চরম সমস্যা হয়। বেশ কয়েকবার অভিযোগ দিয়েও এর সমাধান হয়নি। জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের এলাকায় কেউ আত্মীয়তার সম্পর্ক করতেও চায় না।
মো. মন্টু মিয়া বলেন, আমাদের এখানে ছয়টি গ্রাম একেবারে জলাবদ্ধ হয়ে আছে। রাস্তার পশ্চিম পাশে নয়নজালি দখল করে কলকারখানা ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের ফলে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, কোনো সরকারি খাল বা জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে এমন কিছু দখল করার সুযোগ নেই। আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে শিগগিরই যথাযথ ব্যবস্থা নেব।




