মন্ত্রীপাড়ায় মন্ত্রী নেই

সংগৃহীত ছবি
ঠিক কবে, কীভাবে, কার প্রস্তাবে এলাকাটির নাম ‘মন্ত্রীপাড়া’ হলো— সেটি এখন আর সুস্পষ্টভাবে স্মরণে নেই কারোরই। তবে মোটামুটি সবাই একমত ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে মন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হওয়া সুবিমল দেওয়ানের কারণেই এ পাড়ার নাম হয়েছে মন্ত্রীপাড়া।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাঙামাটি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক বাঞ্চিতা চাকমা জানালেন, ‘যখন সুবিমল দেওয়ান মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা ছিলেন, তখন আমাদের এক বড় ভাই অমিতাভ খীসা প্রস্ত করেন এই নাম। তার যুক্তি ছিল, যেহেতু এই এলাকা থেকে একজন মন্ত্রী হয়েছেন, তাই পাড়াটির নাম মন্ত্রীপাড়া হতে পারে। সবাই সম্মতি দেওয়ায় এই এলাকা মন্ত্রীপাড়া নামেই পরিচিতি পায়। রাঙামাটি শহরের অন্যতম অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত এই মন্ত্রীপাড়া। এখানে বসবাসকারীদের প্রায় সবাই সমাজের বিশিষ্টজন এবং এলাকাটিও বেশ সাজানো-গোছানো।
জিয়াউর রহমানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর স্বাভাবিকভাবেই আর উপদেষ্টা ছিলেন না সুবিমল দেওয়ান; কিন্তু পাড়ার সেই নামটি রয়ে যায়। মন্ত্রীহীন মন্ত্রীপাড়ার বদনাম ঘোছাতেই যেন ৪৫ বছর পর সেই একই বাসা থেকে সুবিমল দেওয়ানপুত্র সাবেক বিচারক দীপেন দেওয়ান এমপি হন। হন জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পার্বত্যমন্ত্রী। বহু বছর পর পাড়ার নামটি যেন আবার ফিরে পেল তার পুরনো পরিচয় ও গৌরব; কিন্তু বিধিবাম! মাত্র সাড়ে তিন মাসেই মন্ত্রিত্ব হারালেন দীপেন।
পাড়ার প্রবেশমুখেই সুবিশাল সাইনবোর্ড ‘আবাসিক এলাকা, কলেজ গেট মন্ত্রীপাড়া, রাঙামাটি’। সাইনবোর্ডও বসেছে খুব বেশি দিন হয়নি। শুধু সাইনবোর্ডই নয়, ওই এলাকার সব দোকানপাট বা বসতঘরও মন্ত্রীপাড়া হিসেবেই পরিচিত। শহরবাসীর কাছেই শুধু নয়, সরকারি কাগজ-কলমেও এলাকাটির নাম মন্ত্রীপাড়া। এই এলাকা ছাড়া সারা দেশের আর কোথাও মন্ত্রীপাড়া নামে কোনো এলাকা রয়েছে কি না, গুগল ঘেঁটেও মিলল না কোনো তথ্য। সম্ভবত দেশের একমাত্র মন্ত্রীপাড়া রাঙামাটির এ এলাকাটিই!
সাধারণত রাজধানীর মিন্টো রোডের মন্ত্রীদের বাসভবন যে এলাকায় অবস্থিত, সেটিকে গণমাধ্যমগুলো মন্ত্রীপাড়া নামে অভিহিত করে থাকলেও বাস্তবিকভাবে মন্ত্রীপাড়া নামে কোনো এলাকার খোঁজ মেলেনি সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুসন্ধান করেও। তবে প্রতিবেশীরা জানালেন, মন্ত্রী সপরিবারে
ঢাকায়। ঈদের আগে যে গেছেন, আর আসেননি। মন্ত্রী হওয়ার পর বাড়িতে বেশ কিছু কাজও করেছে সরকারের বিভিন্ন বিভাগ। দর্শনার্থীদের সঙ্গে দেখা করার জন্য শেড, পুলিশ চেকপোস্ট, নতুন এসি স্থাপনসহ অনেক কিছুই দেখা গেছে সরেজমিনে।
গলির মুখেই দেখা মন্ত্রীপাড়ার বাসিন্দা অর্ণব চাকমার সঙ্গে। তিনি জানালেন, ‘আমরা এই পাড়ায় এসেছি ১৯৯২ সালে। তখন ক্লাস নাইনে পড়ি। তখন থেকেই এই পাড়ার নাম মন্ত্রীপাড়া জেনে এসেছি। বড়দের কাছে শুনেছি, এই পাড়ার একজন একসময় মন্ত্রী ছিলেন। মন্ত্রীর নামে পাড়া— বিষয়টি ইন্টারেস্টিং ছিল বটে।’




