নাসিরনগর
মেঘনা এখন চাতলপাড়ের দুঃখ

ছবি: আগামীর সময়
যে নদী একসময় ছিল হাওরবেষ্টিত চাতলপাড় জনপদের বাসিন্দাদের জীবনধারার জন্য আশীর্বাদ, কালের পরিক্রমায় আজ সেই মেঘনা তাদের কাছে ধরা দিয়েছে দুঃখ আর আতঙ্ক রূপে। যে নদীর রূপালি ঢেউ আন্দোলিত করত এখানকার বাসিন্দাদের হৃদয়, সেই নদীর ঢেউ এখন আঁচড়ে পড়ছে অভিশাপ হয়ে।
এমনই বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে আতঙ্কে দিন কাটছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের মেঘনাপাড়ের ৩০০ বছরের প্রসিদ্ধ জনপদ চাতলপাড়ের বাসিন্দাদের।
এবারও ভারীবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানির স্রোতে নতুন করে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। ভাঙনের আতঙ্কে রয়েছে শতশত পরিবার।
স্থানীয় বাসিন্দা ফিরোজ আহমেদ, সোহাগ ভুইয়া, সাইফুল ইসলাম জানান, ৭-৮ বছর ধরে চাতলপাড়ের বিভিন্ন গ্রাম ভাঙনের কবলে পড়েছে। জরুরি ভিত্তিতে এই ভাঙন প্রতিরোধের উদ্যোগ দরকার।
চাতলপাড় ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বিনয় রায়ের মতে, ২০১৮ সালের দিকে অষ্টগ্রাম-মিঠামইন সড়ক নির্মাণের পর হতে নদীর গতিপথ বদলে যায়। তখন থেকেই চাতলপাড়ের বিভিন্ন এলাকা ভাঙন বেড়েছে।
তিনি আরও জানান, বিলেরপাড় আবিস, চকবাজার থেকে জয়নগর হাটি পর্যন্ত তীব্র ভাঙনের শিকার হয়েছে। এ পর্যন্ত চকবাজারের ১টি দ্বিতল ভবনসহ ২৫-৩০টি দোকান সম্পূর্ণ ও বেশ কয়েকটি দোকান আংশিক নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। চাতলপাড় গ্রামের ১০-১২টি বাড়ি সম্পূর্ণ ও বেশ কয়েকটি আংশিক বিলীন হয়েছে। বিলেরপাড়ের মসজিদটিও নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এবছর নতুন করে চকবাজারের ৪-৫টি দোকান বিলীন হয়েছে। ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটছে বাসিন্দাদের।
চাতলপাড় ইউনিয়নের বাসিন্দা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও চাতলপাড় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন জানালেন, ইটনা-মিঠামইন সড়ক নির্মাণের পর থেকে মূলত নদীর পানি প্রবাহে বিঘ্ন ঘটে, স্রোতের তোড়ে ভাঙন দেখা দেয়।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যোগ করে তিনি জানান, মেঘনার নোয়াগাঁও সংলগ্ন অংশে চর জেগে ওঠায় চাতলপাড়ে, চকবাজার, বিলেরপাড় ভাঙন বেড়েছে৷ জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ হান্নানের সহযোগিতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে।
তিন শ বছরের প্রাচীন এই জনপদকে রক্ষার জন্য স্থায়ী বেড়িবাঁধ ও নদী ড্রেসিং করার উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, গত কয়েক বছরের ভাঙনে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি,দোকানপাট ও একটি মসজিদ বিলীন হয়ে গেছে। সময় মতো স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে অবশিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি বিলীন হয়ে যাবে।
পানিউন্নয়ন বোর্ডের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আকাশ দত্ত আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, চাতলপাড় নদী তীর সংরক্ষণ কাজের প্রস্তাবনা পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




