বাচ্চু হত্যাকারীদের শাস্তি চেয়ে রংপুরে সড়ক অবরোধ-বিক্ষোভ

ছবি: আগামীর সময়
রংপুরে কৃষক মোকছেদুল ইসলাম বাচ্চু মিয়া (৬৫) হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত, সব আসামিকে গ্রেপ্তার ও হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধ ও সমাবেশ করেছেন এলাকাবাসী ও স্বজনরা।
আজ শুক্রবার বিকেলে পীরগাছা উপজেলার নব্দীগঞ্জ বাজারে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
এ সময় ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
আন্দোলনকারীরা জানান, রংপুর নগরীর কলাপাড়ার বাসিন্দা মোকছেদুল ইসলাম বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে তার ভাইদের পৈতৃক জমি ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ২০ অক্টোবর কুড়িগ্রামের উলিপুরে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যান তিনি। এ সময় বড় ভাই একাব্বর আলীর অনুরোধে তার বাড়িতে অবস্থান করেন।
পরিবারের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রাতে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে বাচ্চু মিয়াকে অচেতন করা হয়। পরে একাব্বর আলী, তার নাতি রাব্বিসহ পরিবারের সদস্যরা তাকে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ তিন টুকরা করে গুমের পরিকল্পনা করা হয়। মধ্যরাতে বস্তাবন্দী মরদেহ নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় প্রতিবেশীরা রাব্বিকে আটক করে পুলিশে দেন।
এ ঘটনায় রাতেই পুলিশ একাব্বর আলী, তার নাতি রাব্বিসহ তিনজনকে আটক করে। আন্দোলনকারীদের দাবি, রাব্বি একাই হত্যার কথা স্বীকার করার পর পুলিশ অন্য দুজনকে ছেড়ে দেয়। এরপর থেকে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার পুনঃতদন্ত ও অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। স্বজনরা রাব্বিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার আরও তথ্য উদ্ঘাটনের অনুরোধ জানালেও পুলিশ তাতে সাড়া দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
নিহতের ছেলে রবিউল ইসলাম ও মোত্তাবেল মিয়া বলেন, ময়নাতদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের জানিয়েছেন, একজনের পক্ষে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো সম্ভব নয়। তাদের অভিযোগ, একাব্বর আলী পুলিশকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে অন্য আসামিদের মামলার বাইরে রেখেছেন।
তারা অবিলম্বে মামলার পুনঃতদন্ত, অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং রাব্বিসহ সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।



