নির্বাচনী হলফনামায় আমির হামজার সম্পদ গোপনের অভিযোগ, ইসিতে আবেদন

সংসদ সদস্য আমির হামজা
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামা, আয়কর রিটার্ন ও ব্যাংক হিসাবের তথ্যে ব্যাপক অসংগতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় এক ভোটার।
আবেদনকারী মো. সিরাজুল ইসলাম কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পশ্চিম আব্দালপুরের হাতিয়া আব্দালপুর এলাকার আলী হোসেনের ছেলে।
আজ মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে তিনি এ আবেদন জমা দেন। এতে আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামা, আয়কর রিটার্ন, ব্যাংক হিসাব, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, পারিবারিক ব্যয় ও নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণীতে বিভিন্ন অসংগতির অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্য আমির হামজা ২০২৫ সালের ৩০ জুনের আয়কর রিটার্নে ব্যাংকে জমার পরিমাণ শূন্য দেখিয়েছেন। অথচ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, কুষ্টিয়া শাখার একটি হিসাবে ওই সময়ে প্রায় ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ১৯৯ টাকা জমা ছিল বলে দাবি করেছেন আবেদনকারী।
নগদ অর্থের হিসাবেও বড় ধরনের পার্থক্যের অভিযোগ করা হয়েছে। হলফনামায় নগদ অর্থের পরিমাণ ২ লাখ ৫৬ হাজার ১৭০ টাকা দেখানো হলেও আয়কর রিটার্নে তা ৩৮ লাখ ৪৫ হাজার ১৭০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ৩৬ লাখ টাকার অসংগতি রয়েছে বলে আবেদনে দাবি করা হয়।
এ ছাড়া আয়কর রিটার্নে বার্ষিক আয় মাত্র ৮১ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। অথচ আমির হামজা আদ্-দ্বীন হাসপাতাল থেকে প্রতি জুমার নামাজে ১ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিল থেকে ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্মানী পান। এসব আয় গোপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আবেদনকারী।
আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, আমির হামজার স্ত্রীর আয়কর রিটার্ন প্রকাশ করা হয়নি। স্ত্রীর নামে থাকা কৃষি ও অন্যান্য সম্পদের তথ্যও হলফনামায় যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি কুষ্টিয়া শহরে তার নিজ নামে থাকা আবাসিক প্লট, পাঁচতলা ভবন, বিলাসবহুল গাড়ি ও ১০ ভরি (১১৬ দশমিক ৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের তথ্য গোপন অথবা অবমূল্যায়ন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাড়ি ভাড়া থেকে আয়, পারিবারিক ব্যয় ও নির্বাচনী প্রচারণার খরচের হিসাবেও বড় ধরনের অমিল রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। নির্বাচনী ব্যয়ের নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে তিনি ৭২ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
আবেদনকারী গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তার আবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তে অসত্য তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রার্থিতা বাতিল এবং সংশ্লিষ্ট আসনে পুনর্নির্বাচনের আইনি বিধান রয়েছে। নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জনসাধারণের আস্থা বজায় রাখতে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আবেদনের সঙ্গে আমির হামজার নির্বাচনী হলফনামার অনুলিপি, আয়কর রিটার্ন, তার স্ত্রীর আয়করসংক্রান্ত কাগজপত্র, নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণী, গাড়ির নিবন্ধন এবং অন্যান্য সম্পত্তি-সংক্রান্ত দলিল সংযুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আবেদনকারী সিরাজুল ইসলাম বললেন, ‘তার নির্বাচনী হলফনামায় বেশকিছু বিষয়ে অসংগতি রয়েছে। আমি সদর আসনের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে ইসিতে আবেদন করেছি, যাতে সাধারণ জনগণ তার ব্যাপারে সত্যটা জানতে পারে।’
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।



