শেরপুরে ৫ টাকার টোল নিয়ে সংঘর্ষ, ৪ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ

শেরপুরের ব্রহ্মপুত্র সেতুর টোলপ্লাজায় মোটরসাইকেলের পাঁচ টাকা টোল দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষ ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক সাংবাদিক ও তার ছেলেকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অবরোধের কারণে চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ভোগান্তিতে পড়েন যানবাহনের যাত্রী, চালকসহ সাধারণ মানুষ। এ সময় টোল আদায় বন্ধের দাবিও জানান ভুক্তভোগী ও বিএনপির নেতারা।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শেরপুর ও জামালপুর জেলার সীমানায় জামালপুর অংশে অবস্থিত সেতুর টোলপ্লাজায় এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে সেতুর জামালপুর অংশে সড়ক অবরোধ করা হয়। মধ্যরাত পর্যন্ত অবরোধ চলার পর দুই জেলার পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকা প্রতিদিন পত্রিকার জামালপুর জেলা প্রতিনিধি ফরিদুল ইসলামের ছেলে সাদিকুর রহমান সুমন তার বাবার মোটরসাইকেলে দুই বন্ধুকে নিয়ে ব্রহ্মপুত্র সেতুতে ঘুরতে যান। টোলপ্লাজার সামনে পৌঁছালে তাদের কাছে পাঁচ টাকা টোল দাবি করা হয়। তারা সেতুতে ঘুরে আবার ফিরে আসবেন জানিয়ে টোল দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে টোল আদায়ের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা সুমনকে মারধর করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী টোলপ্লাজায় গিয়ে বিষয়টি জানতে চান। এ সময় তাদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে জামালপুরের সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম তুফান আহত হন।
পরে আহত সাংবাদিকের স্বজন ও সুমনের বন্ধুরা ঘটনাস্থলে এসে প্রথমে জামালপুর শহরের বন্দেরবাড়ী এলাকায় এবং পরে সেতুর জামালপুর অংশের টোলপ্লাজার সামনে সড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কের দুপাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরে দুই জেলার পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যায় একটি সমঝোতা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
ভুক্তভোগী সুমন অভিযোগ করে বলেছেন, টাকা দিতে দেরি করায় আমাকে মারধর করা হয়েছে। যারা আমাকে মেরেছে, দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে।
তবে টোলপ্লাজার ম্যানেজার ওসমান আলীর দাবি, প্রথমে তাদের কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। পরে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এদিকে শেরপুর ও জামালপুরের স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহনের চালকরা সেতুটির টোল আদায় বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র সেতুর টোল আদায় অনেক আগেই বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু শেরপুরের ব্রহ্মপুত্র সেতুর টোল আদায় এখনো বন্ধ হয়নি। কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কর্মকর্তার ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে টোল আদায় চালু রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
শেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ মো. হযরত আলী অভিযোগ করে বলেছেন, সেতুর টোল থেকে আদায় করা অর্থ সরকার পায় না, বরং কিছু ব্যক্তি তা ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নেন। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য চিকিৎসক সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা এর আগে সেতুটির টোল আদায় বন্ধের দাবিতে ডিও লেটার দিয়েছেন। এ বিষয়ে তদন্তও হয়েছে। দ্রুত টোল আদায় বন্ধের দাবি জানান।
শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাকিল আহমেদ জানিয়েছেন, টোল আদায় বন্ধের বিষয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেরপুরের পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার পর দুই জেলার পুলিশ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে সাংবাদিকের ছেলে সুমন বা অন্য কেউ এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




