মনোহরদীর আট কলেজে পাস-ফেলের লড়াই, পিছিয়ে সরকারি কলেজ

ছবি: আগামীর সময়
নরসিংদীর মনোহরদীতে এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে একদিকে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শতভাগ পাসসহ ভালো ফলাফল করেছে, অন্যদিকে কয়েকটি কলেজে দেখা দিয়েছে হতাশাজনক চিত্র। বিশেষ করে মনোহরদী সরকারি কলেজে ৬১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৫৭ জনই অকৃতকার্য হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে পাসের হার মাত্র ২৫ দশমিক ২০ শতাংশ। এ ফলাফল উপজেলাজুড়ে শিক্ষার মান ও পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
প্রাপ্ত ফলাফল শিট অনুযায়ী, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় উপজেলার আটটি কলেজ থেকে মোট ১ হাজার ৭৫২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ৮৭৩ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৮৭৯ জন। সে হিসাবে উপজেলায় সামগ্রিক পাসের হার ৪৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
ফলাফলে সবচেয়ে ভালো করেছে পাঁচকান্দি কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২০২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই পাস করেছে। শতভাগ পাসের পাশাপাশি ২৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, যা উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ।
ভালো ফলাফল করেছে সরদার আহমত আলী মহিলা কলেজও। প্রতিষ্ঠানটির ২০৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২০০ জন। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন।
অন্যদিকে, উপজেলার অন্যতম বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মনোহরদী সরকারি কলেজের ফলাফল বেশ হতাশাজনক। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৬১১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও পাস করেছে মাত্র ১৫৪ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৪৫৭ জন। পাসের হার ২৫ দশমিক ২০ শতাংশ। এ বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।
খিদিরপুর কলেজের ফলাফলও সন্তোষজনক নয়। প্রতিষ্ঠানটির ২৫০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৯৮ জন এবং ফেল করেছে ১৫২ জন। পাসের হার ৩৯ দশমিক ২০ শতাংশ। এখান থেকেও কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।
উপজেলার অন্য কলেজগুলোর মধ্যে বড়চাপা ইউনিয়ন আদর্শ কলেজে পাসের হার ২৭ দশমিক ৪২ শতাংশ, বড়চাপা কলেজে ৫১ দশমিক ৯২ শতাংশ, হাতিরদিয়া রাজিউদ্দিন কলেজে ৪৮ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং আফাজ উদ্দিন খান কলেজে ৫৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ।
সামগ্রিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাঁচকান্দি কলেজ ও সরদার আহমত আলী মহিলা কলেজের সাফল্যের বিপরীতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে।
এ বিষয়ে সরদার আছমত আলী মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল নিশ্চিত করতে আমরা শুরু থেকেই শতভাগ উপস্থিতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। কলেজের সব শিক্ষক ঐক্যবদ্ধভাবে নিয়মিত মনিটরিং করেন। এরই ধারাবাহিকতায় সরদার আছমত আলী মহিলা কলেজ বরাবরের মতোই উপজেলায় ভালো ফলাফল অর্জন করে আসছে।
মনোহরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান বলেন, আমাদের কলেজে বিভিন্ন কলেজ থেকে অকৃতকার্য শিক্ষার্থী কিংবা টিসি (ছাড়পত্র) নিয়ে আসা শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়। এ ধরনের শিক্ষার্থীর সংখ্যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৫০ শতাংশ। ফলে তাদের ফলাফলের ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ থাকে না।
এ ছাড়া বিগত বছরের ফলাফলের ধারাবাহিকতায় এ বছর কলেজের ফলাফলে কিছুটা অবনতি হয়েছে। গত বছর পাসের হার ছিল ৩৪ শতাংশ, যা এ বছর কমে ২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ তার।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা, পাঠদানের মান, অভিভাবকদের সচেতনতা এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনা—এসব বিষয় পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভালো ফলাফল করা কলেজগুলোর সাফল্যের কারণ চিহ্নিত করে তা অন্য প্রতিষ্ঠানে অনুসরণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে এখন প্রশ্ন উঠেছে, কয়েকটি কলেজ ভালো ফলাফল করলেও অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো কেন পিছিয়ে পড়ছে? বিশেষ করে মনোহরদী সরকারি কলেজের ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




