পদ্মা সেতুমুখী ঈদযাত্রায় ভোগান্তি, মিলছে না বাস

ছবি: আগামীর সময়
ঈদুল আজহার ছুটির প্রথম দিনেই ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে ঘরমুখো যাত্রা শুরু হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের। তবে যাত্রার শুরুতেই ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেক যাত্রী।
মুন্সিগঞ্জ অংশের অন্তত চারটি যাত্রী ছাউনিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত পরিবহন পাচ্ছেন না দক্ষিণাঞ্চলগামী মানুষ।
যাত্রীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলেও মিলছে না আসন। একাধিক যাত্রী জানিয়েছেন, যেখানে ভাড়া ২৫০ টাকা হওয়ার কথা, সেখানে ভাড়া চাওয়া হচ্ছে ৬০০-৭০০ টাকা পর্যন্ত।
এক যাত্রীর ভাষ্য, ২৫০ টাকার ভাড়া ৭০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে, তারপরও দেওয়া হচ্ছে না আসন।
আরেক যাত্রী বলেছেন, অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার পাশাপাশি ভালো নয় পরিবহন সংশ্লিষ্টদের আচরণও। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও পাওয়া যাচ্ছে না কোনো বাস।
যাত্রী ছাউনিতে অপেক্ষমাণ আরেক ব্যক্তি বলেছেন, ‘পরিবার নিয়ে ঈদ করতে পারব কি না, তা নিয়েই এখন দুশ্চিন্তায় আছি।’
এদিকে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টহল টিমের পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে একাধিক অ্যাম্বুলেন্সও। যাতে দ্রুত সেবা দেওয়া যায় দুর্ঘটনা ঘটলে।
পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সম্পন্ন করা হয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি। পদ্মা সেতুর সাইড অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদ বলেছেন, মোটরসাইকেলের জন্য অতিরিক্ত দুটি লেনসহ চালুর প্রস্তুতি রাখা হয়েছে মোট ১০টি লেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে রয়েছে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। হাসারা হাইওয়ে থানার ওসি মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণবঙ্গগামী যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে কাজ করছে ছয়টি টিম। এর মধ্যে সার্বক্ষণিক তদারকি করছে চারটি চেকপোস্ট ও দুটি মোবাইল টিম।
তবে যাত্রীদের দাবি, দ্রুত অতিরিক্ত যানবাহনের ব্যবস্থা এবং ভাড়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আরও বাড়তে পারে ঈদযাত্রার ভোগান্তি।






