২০ হাজার টাকায় মাদক বহনের মোটরসাইকেল ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ৩৯ পিস ইয়াবাসহ মো. রুবেল মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তবে অভিযানের সময় মাদক বহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া এক উপপরিদর্শক (এসআই)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ অক্টোবর রাতে চিলমারী থানার এসআই অলিউল রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার রমনা ইউনিয়নের তেলিপাড়া চৌরাস্তা মোড়ে অভিযান চালায়। এ সময় রুবেল মিয়াকে আটক করার পাশাপাশি তার কাছ থেকে ৩৯ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছিল বলে স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, পরে রুবেলের পরিবারের সদস্যরা পুলিশের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে মোটরসাইকেলটি ছাড়িয়ে নেন। এ ক্ষেত্রে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।
মকবুল হোসেন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেছেন, অভিযানের সময় পুলিশ রুবেলকে আটক করে এবং তার মোটরসাইকেলটি জব্দ করে। পরে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে মোটরসাইকেলটি ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে রুবেলকে ইয়াবাসহ থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
ঘটনাস্থলের কাছাকাছি উপস্থিত ছিলেন দাবি করে আরেক স্থানীয় ব্যক্তি বলেছেন, রুবেলকে আটকের পর মোটরসাইকেলটির বৈধ কাগজপত্র নিয়ে পুলিশ কথা বলছিল। পরে রুবেলের বাবা, মা ও অন্যান্য স্বজন সেখানে এসে ২০ হাজার টাকা দিয়ে মোটরসাইকেলটি ছাড়িয়ে নেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তবে মোটরসাইকেল ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই অলিউল রহমান বলেছেন, মোটরসাইকেলটি রুবেলের বাড়ির সামনে ছিল। সে মোটরসাইকেলটি রেখে পালানোর চেষ্টার সময় তাকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়। পরে মোটরসাইকেলটি সেখানেই রেখে আসা হয়েছে।
টাকা নিয়ে মোটরসাইকেল ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
চিলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার বলেছেন, মোটরসাইকেলটির বিষয়ে তিনি অবগত নন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেছেন সংশ্লিষ্টদের ডেকে কথা বলে বিষয়টি দেখবেন।




