সুন্দরবন থেকে ভোলা নদী সাঁতরে লোকালয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে বাঘ

বাঘের পায়ের ছাপ
সুন্দরবন থেকে ভোলা নদী সাঁতরে লোকালয়ে এসে বনের পাশের গ্রাম ঘুরে গেছে একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার। নদীর চর থেকে শুরু করে বসতবাড়ির আশপাশ পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দেখা গেছে বাঘের পায়ের অসংখ্য ছাপ। তবে বাঘটি আবার বনে ফিরে গেছে, নাকি এখনো লোকালয়ের ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে আছে, তা নিয়ে চরের বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে সংশয়। বাঘের আসার খবরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বনসংলগ্ন গ্রামটিতে।
আজ সোমবার সকালে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের সুন্দরবনসংলগ্ন সোনাতলা গ্রামের পানিরঘাট এলাকায় বাঘের পায়ের এই ছাপ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা।
খবর পেয়ে বন বিভাগ, ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম (ভিটিআরটি) ও কমিউনিটি প্যাট্রলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যরা এলাকায় সতর্কতামূলক টহল শুরু করেছেন। পাশাপাশি মাইকিং করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, ভোলা নদী তীরবর্তী চর ও সোনাতলা গ্রামের আশপাশে বাঘের বিচরণ নিয়ে সতর্ক রয়েছে বন বিভাগ। বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়ার খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে তাদের ধারণা, বাঘটি খুব সকালে নদী সাঁতরে লোকালয়ে এসেছিল এবং পরে আবার সুন্দরবনে ফিরে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভিটিআরটি সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোলার চরের বাসিন্দা মৎস্যজীবী আবদুল লতিফ হাওলাদার খুব সকালে নদীর চরে যান। এ সময় তিনি বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পান। পরে বিষয়টি স্থানীয় ভিটিআরটি সদস্যদের জানান। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে দেখা দেয় উদ্বেগ ও আতঙ্ক। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সবাইকে সতর্ক করা হয় এবং বন বিভাগকে বিষয়টি জানানো হয়।
স্থানীয় ভিটিআরটির টিম লিডার মো. জাকারিয়া হোসাইন বলেন, প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীর চর ও বসতবাড়ির আশপাশে বাঘের পায়ের স্পস্ট ছাপ পড়ে আছে। খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় লোকজনকে সতর্ক করা হয়। বর্তমানে বনরক্ষীদের সঙ্গে আমরা ভিটিআরটি ও সিপিজির সদস্যরা এলাকায় টহলে রয়েছি। হ্যান্ডমাইকে প্রচার চালিয়ে সবাইকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হচ্ছে।
ভিটিআরটি টিম লিডার জাকারিয়া আরো বলেন, ভোলা নদীর এই অংশটি অরক্ষিত। অন্যান্য এলাকায় নাইলনের রশির ফেন্সিং বেড়া থাকলেও এখানে তা নেই। যে কারণে বনের বাঘ, হরিণ ও বন্য শূকর অবাধে লোকালয়ে চলে আসছে। প্রতিদিন বন্য শূকর এসে মানুষের ফসল নষ্ট করছে। বন্য শূকর শিকারের জন্য হয়তো বাঘটি এসেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর নিরাপত্তার জন্য এখানে ফেন্সিং বেড়া দেওয়ার দাবি জানাই।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বাঘটি লোকালয়ে এসে আবার বনে ফিরে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বনরক্ষী, ভিটিআরটি ও সিপিজির সদস্যদের আগামী চার থেকে পাঁচ দিন ওই এলাকায় পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বন বিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভোরে ও সন্ধ্যার পর একা নদীর চর, বনের কিনারা এবং ঝোপঝাড়ের কাছে না যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। গবাদিপশু চরানো ও দৈনন্দিন কাজে বাইরে যাওয়ার সময়ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।





