এসএসসির ফল বিপর্যয়
মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেলেন তালাবদ্ধ শিক্ষকরা

এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর বিক্ষোভ করেন শেরপুরের রামেরচর হাই স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ছবি: আগামীর সময়
পাস করতে না পারা শিক্ষার্থীদের পরবর্তী পরীক্ষার সব খরচ বহন করার মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেলেন শেরপুরের রামেরচর হাই স্কুলের তালাবদ্ধ শিক্ষকরা।
এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বিক্ষোভ করেন ওই স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এ সময় শিক্ষকদের কার্যালয়ের ভেতরে তালাবদ্ধ করে রাখেন তারা। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে আলোচনা শেষে মুচলেকা দেওয়ার পর মুক্তি পান শিক্ষকরা।
গতকাল সোমবার শেরপুর সদর উপজেলার ১১ নম্বর বলাইরচর ইউনিয়নের রামেরচর হাই স্কুলে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানালেন, চলতি বছর এই স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় তিনটি বিভাগে মোট ৭৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। পাস করেছে মাত্র ২১ জন। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি, আর বিজ্ঞান বিভাগে ফেল করেছে ৪৩ জন। ফল প্রকাশের পর শিক্ষকদের কার্যালয়ের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস হয় না। অধিকাংশ শিক্ষক সময়মতো স্কুলে আসেন না এবং শিক্ষকদের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই প্রতিবছর বিপুল শিক্ষার্থী পাস করতে পারছে না।
ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। দীর্ঘ আলোচনা শেষে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অঙ্গীকারপত্র দেওয়া হলে তাদের অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করা হয়।
লিখিত অঙ্গীকারে শিক্ষকরা উল্লেখ করেন, পরীক্ষায় অকৃতকার্য সব শিক্ষার্থীর বোর্ড চ্যালেঞ্জ (খাতা পুনঃনিরীক্ষণ) ফি এবং ২০২৭ সালে আবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ফর্ম পূরণের খরচ তারা নিজস্ব অর্থায়নে বহন করবেন।
শেরপুর সদর থানার ওসি মো. সোহেল রানার ভাষ্য, পরিস্থিতি শান্ত করে শিক্ষকদের উদ্ধার করা হয়েছে। পরে উভয়পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছেছে।
শেরপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চান মিয়া বলেছেন, ‘ঘটনার বিষয়ে জেনেছি। এখন পর্যন্ত স্কুল কর্তৃপক্ষ বা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’






