সাজেকে অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

সঙ্কট নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শেষে সাজেক গণঅধিকার আন্দোলন ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন সাজেক গণঅধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা।
রাত আটটায় সাজেক গণঅধিকার আন্দোলনের ফেসবুক পেইজে এক লাইভে তিনি এই ঘোষণা দেন। সরকার থেকে তাদের পাঁচ দফা দাবি মেনে না নেওয়ায় এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
এ সময় তিনি বলেন, আমাদের পাঁচ দাবির মধ্যে চারটি দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানায় সরকারি প্রতিনিধি দল। আমাদের যে মূল দাবি সন্তু লারমার সশস্ত্র গ্রুপকে এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার সেটার জন্য তারা প্রথমে এক মাস সময়ে চেয়েছে, আমরা তিনদিন সময় দিতে রাজি হয়েছি। শেষ পর্যন্ত তারা ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়েছে, আমরা আগামী ৫ দিন সময় দিতে রাজি হয়েছি। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে আমরা পুরোপুরি কোনও আশ্বাস না দেওয়ায় আমরা শেষ পর্যন্ত সড়ক অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, সরকার চাইলে একদিনের মধ্যে সমস্যা সমাধান করতে পারে, কিন্তু তাদের ইতিবাচক মনোভাবের অভাবে তারা তালবাহানা করছে বলে আমাদের মনে হয়েছে। তাই চলমান আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিচ্ছি। সরকার যদি আবারো আলোচনার টেবিলে বসতে চায়, আমরা বসতে রাজি আছি।
তিনি আরো বলেন, অতীতে সরকার একদিনের মধ্যে এই ধরনের সমস্যা সমাধান করেছে, কিন্তু এবার আমাদের তরফ থেকে একাধিকবার সময় দেওয়ার পরও তারা দাবি মেনে নিতে তালবাহানা করছে। তিনি এসময় দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে সোমবার দুপুর তিনটায় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল সাজেকের উজোবাজারে যান। এসময় তারা ক্ষতিগ্রস্ত দোকানপাট পরিদর্শন করেন। পরে বাজারে কেয়ার পয়েন্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে আলোচনা সভায় মিলিত হন।
এ সময় বৈঠকে অংশ নেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি খাগড়াছড়ির সাংসদ ওয়াদুদ ভূইয়া এমপি, রাঙামাটি সাংসদ দীপেন দেওয়ান, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মো মোরতোজা আলী খান, রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিবসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। সাজেক গণঅধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা নেতৃত্বে এসময় একদল আন্দোলনকারী বৈঠকে অংশ নেন।
পাঁচ দফা দাবিগুলো হচ্ছে- অবরোধকারীদের ওপর হামলার সাথে জড়িতদের শাস্তি এবং দায়ের করা মামলা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে। ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। উজো বাজারের স্থানীয় দোকান ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। উজোবাজার থেকে সেনা ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদেরকে সরিয়ে নিতে হবে। আহতদের সম্পূর্ণ চিকিৎসাভার গ্রহণ করতে হবে। জেএসএসের সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে অতি দ্রুত সরিয়ে নিতে হবে। তাদের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধ করতে হবে। আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের কাউকে সন্ত্রাসী তকমা লাগিয়ে গ্রেফতার, হয়রানি ও তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি করা যাবে না।




