দিনাজপুরে থানা চত্বরে পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষ, আহত ১০

দিনাজপুর কোতোয়ালী থানা চত্বরে শ্রমিকদের দুপক্ষের সংঘর্ষে ৬ জন আহত হয়েছেন। ছবি: আগামীর সময়
দিনাজপুরে মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন নেতার গ্রেপ্তার ঘিরে কোতোয়ালী থানায় শ্রমিকদের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ১০জন আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত থেমে থেমে চলেছে সংঘর্ষ।
একই সঙ্গে ভোর থেকে জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন শ্রমিকরা। যান চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
গতকাল বুধবার রাতে জেলার বাস টার্মিনাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা শেখ বাদশাকে। তিনি আসন্ন মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী। আজ তার মনোনয়ন জমার শেষ দিন ছিল— জানান সমর্থকরা।
কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ নূরনবী আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি মামলায় বাদশাহকে গতরাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তার মুক্তির দাবিতে ভোর থেকে আন্দোলনে নামেন সমর্থকরা। তাদের দাবি, আওয়ামীপন্থী ট্যাগ দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বাদশাহকে।
একপর্যায়ে কোতোয়ালী থানার ঘেরাও করেন তারা। থানার ভেতরে আগে থেকেই অবস্থান নিয়ে রেখেছিল এই শ্রমিক ইউনিয়নের বিএনপিপন্থী বলে পরিচিত আরেকটি অংশ। বাদশার সমর্থকরা থানার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সামনেই দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে ছত্রভঙ্গ হয়ে আশপাশে অবস্থান নেয় দুপক্ষ। সবশেষ দুপুর ১টা পর্যন্ত থানা এলাকার পরিস্থিতি ছিল থমথমে।
সংঘর্ষে ও পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত ১০জন আহত হয়েছেন। তাদেরকে দিনাজপুর মেডিকেলসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
বাদশাহ গ্রুপের দাবি, আহতদের মধ্যে সাতজন তাদের লোকজন। অন্যদিকে, অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে দাবি অন্যপক্ষের।
লাঠিচার্জ করে সবাইকে থানা চত্বরের বাইরে বের করে গেট বন্ধ রেখেছে পুলিশ। আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি কর্মকর্তারা। একাধিকবার কল করা হলেও রিসিভ করেননি ওসি।
এদিকে, সড়ক অবরোধের কারণে দিনভর দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও চালকরা। সকালে শহরের কলেজ মোড় থেকে রংপুরে যাওয়ার জন্য বের হন মো. আমিনুল। কিন্তু সড়ক অবরোধের কারণে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় তিনি বিপাকে পড়েন।
তিনি বলেছেন, ‘কয়েক দিন পরপর শ্রমিকরা আন্দোলন করে রাস্তা অবরোধ করে রাখছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় আমাদের। শ্রমিকদের উচিত বিকল্প ব্যবস্থায় আন্দোলন করা।’





