গজারিয়া
লাইফ জ্যাকেট নেই, তবু উত্তাল মেঘনায় ট্রলারে পারাপার

ছবি: আগামীর সময়
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার লঞ্চঘাট থেকে প্রতিদিন শত শত যাত্রী ও শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিচ্ছেন ট্রলারে। ঈদকে সামনে রেখে বৈরী আবহাওয়ায় এই ঝুঁকি আরও বেড়েছে। ট্রলারে নেই পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, নৌপথে নেই পর্যাপ্ত বয়া। তবু বিকল্প না থাকায় এই পথেই প্রতিদিন মুন্সিগঞ্জ জেলা সদরে যাতায়াত করতে হচ্ছে গজারিয়াবাসীকে।
সরেজমিন দেখা গেছে, ২০ থেকে ৩০টি ট্রলারে গজারিয়া লঞ্চঘাট থেকে মেঘনা পার হয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার চরকিশোরগঞ্জ ঘাট হয়ে যাত্রীরা মুন্সিগঞ্জে যাতায়াত করছেন। এই নৌপথ ছাড়া বিকল্প সড়কপথে নারায়ণগঞ্জ হয়ে ৩০ থেকে ৩৫ কিলোমিটার ঘুরপথে জেলা সদরে পৌঁছাতে হয়। অথচ নৌপথে দূরত্ব মাত্র ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানিয়েছেন, কোনো কোনো ট্রলারে নামকাওয়াস্তে লাইফ জ্যাকেট থাকলেও সেগুলো নৌকার বিশেষ স্থানে তালাবদ্ধ থাকে। অধিকাংশই পুরনো ও কার্যক্ষমতাহীন। নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ঘাটে ট্রলারে ওঠা এবং চরকিশোরগঞ্জ প্লাটুনে নামার সময় রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়।
নৌপথটির নিয়মিত ব্যবহারকারী মনির হোসেন ও ফয়েজ মিয়া জানালেন, ‘প্রতি মুহূর্ত বিপদ জেনেও নদী পাড়ি দিতে হয়।’ মুন্সিগঞ্জ সদরের হরগঙ্গা কলেজের শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘আমরা শতাধিক শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিয়ে পাঠ নিতে যাই।’
গজারিয়া অংশের ইজারাদার হোসেন মিয়ার ভাষ্য, ট্রলার মাঝিদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
লঞ্চঘাটে থাকা বাংলাদেশ কোস্টগার্ড গজারিয়া স্টেশনের পেটি অফিসার মো. সালাহউদ্দিন বলেছেন, ‘ট্রলারে যাত্রীদের নিরাপত্তা তদারকিতে আমাদের করণীয় কী, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে হবে।’
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইজারাদার ও ট্রলার মাঝিদের যাত্রীনিরাপত্তা সামগ্রী রাখাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, মেঘনা নদী গজারিয়া উপজেলাকে জেলা সদর থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। এই নৌপথে সেতু না থাকায় গজারিয়া উপজেলা, লৌহজং, সিরাজদিখান, টঙ্গিবাড়ী ও শ্রীনগর উপজেলা থেকেও যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। যুগের পর যুগ পেরিয়ে গেলেও গজারিয়া-চরকিশোরগঞ্জ নৌপথে সেতু নির্মাণের দাবি পূরণ হয়নি।
সম্প্রতি মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন জাতীয় সংসদে জেলা সদরের সঙ্গে গজারিয়া উপজেলাকে সংযুক্ত করতে দুটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। সেই দাবি পূরণের প্রত্যাশায় বুক বেঁধে আছেন গজারিয়াবাসী।






