খাগড়াছড়িতে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা

ছবি: আগামীর সময়
খাগড়াছড়ির মহালছড়ির নুনছড়ি গুচ্ছগ্রামে মাহফুজা আক্তার মনি (১৮) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ রবিবার সকালে মহালছড়ি থানা-পুলিশ গৃহবধূর মরদেহটি তার স্বামীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করে।
নিহত মাহফুজা আক্তার মনি উপজেলা সদর ইউনিয়নের মজিবুর রহমানের মেয়ে। ২০২৪ সালে পারিবারিকভাবে মাইসছড়ি ইউনিয়নের নুনছড়ি গুচ্ছগ্রামের নুর আলমের ছেলে সুজনের (২০) সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের এক বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে।
মাহফুজার শ্বশুর নুর আলম জানান, গতকাল রাতে তার ছেলে ও পুত্রবধূর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তিনি তাদের বুঝিয়ে মিলিয়ে দেন। রাতে সবাই একসঙ্গে ভাত খেয়ে ঘুমাতে যান। ভোর ৪টার দিকে ঘুম থেকে উঠে বাইরে গেলে তিনি ছেলে সুজনের ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। ছেলেকে ডাকলে সুজন ঘুম থেকে উঠে দেখেন, পাশে সন্তান থাকলেও তার স্ত্রী মাহফুজা নেই। এরপর তারা ডাকাডাকি শুরু করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে বাড়ির একটি খালি ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। এতে সন্দেহ হলে দরজা ধাক্কা দিয়ে খুলে মাহফুজার নিথর দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
তবে মাহফুজার পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা। তাদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে মাহফুজাকে নির্যাতন করা হতো। সেই নির্যাতনের জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের মামা মো. সমের আলী জানান, বিয়ের পর থেকেই তার ভাগনিকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। গতকালও তার ভাগনি ফোন করে মারধরের কথা জানিয়েছিলেন। তার কথাবার্তায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। আজ জানতে পারেন, মাহফুজাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
সমের আলী বলেন, তার ধারণা, মাহফুজাকে হত্যা করে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকতে কেউ দেখেননি। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।
মহালছড়ি থানার ওসি মির্জা জহির উদ্দিন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।




