কৃষকদের জন্য পবিপ্রবির উদ্যোগ, বিনামূল্যে মিলবে কৃষি সেবা

সংগৃহীত ছবি
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) স্থানীয় কৃষকদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আধুনিক কৃষি পরামর্শ ও সেবা কার্যক্রম চালু করতে যাচ্ছে। পবিপ্রবি ইনোভেশন অ্যান্ড ডেসিমিনেশন সেন্টারের (পিআইডিসি) আওতায় এই সেবা দেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, চলতি মাসেই স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে একটি কর্মশালার মাধ্যমে এই মানবিক ও জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) একটি প্রকল্পের আওতায় ২০১৪ সালে এই পিআইডিসি প্রতিষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই কেন্দ্রের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেন।
মূলত তারই বিশেষ নির্দেশনায় স্থানীয় কৃষকদের সরাসরি সেবা দিতে এই নতুন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ দিতে পিআইডিসিতে একটি ‘কৃষক সেবা সেল’ খোলা হবে। চাষাবাদ সম্পর্কিত যেকোনো সমস্যা বা পরামর্শের জন্য কৃষকেরা এই সেলে যোগাযোগ করলে বিশেষজ্ঞরা সরাসরি সমাধান জানাবেন।
এর আওতায় কৃষকেরা ফসলের রোগবালাই দমন, উন্নত জাতের বীজ নির্বাচন, মাটি পরীক্ষা এবং আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞদের পরামর্শ পাবেন। একই সঙ্গে কৃষকদের মাঠপর্যায়ের বাস্তব সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানে নতুন নতুন গবেষণারও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আরও জানায়, বর্তমানে পবিপ্রবির স্নাতক স্তর থেকেই থিসিস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব থিসিসের ক্ষেত্রে গবেষণার বিষয় নির্বাচনে দক্ষিণাঞ্চলের পরিবর্তিত জলবায়ু ও স্থানীয় কৃষকদের সমস্যা সমাধানের বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান উল্লেখ করেছেন, একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেবল চার দেয়ালের মাঝে শিক্ষা প্রদানের জন্য নয়; আশেপাশের মানুষ ও সমাজের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বড় সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকে। এই অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্থানীয় কৃষকদের জীবনের মানোন্নয়ন ও তাঁদের সংকটে পাশে দাঁড়ানো নৈতিক কর্তব্য। এই কার্যক্রমের ফলে কৃষক ও খামারিরা সরাসরি উপকৃত হবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে গণমানুষের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে উপাচার্য আরও বলেছেন, দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মাটিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং নিত্যনতুন পোকা-মাকড়ের আক্রমণ বাড়ছে। এই সেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে গবেষকেরা সরাসরি মাঠপর্যায় থেকে বাস্তবসম্মত উপাত্ত সংগ্রহ করতে পারবেন।
‘কৃষকদের সমস্যাগুলোকে ল্যাবরেটরিতে এনে সেগুলোর ওপর বাস্তবমুখী গবেষণা করা অনেক সহজ হবে। এর ফলে ল্যাবের তত্ত্বীয় গবেষণা কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি মাঠের ফসলে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে, যা দেশের সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে বড় ভূমিকা রাখবে’, বলছিলেন অধ্যাপক হেমায়েত।




