মাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার অভিযোগে ছেলে গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার ছেলে মামুনুর রশিদ
যশোরে মাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার অভিযোগে মামুনুর রশিদ (৪৩) নামে এক স্কুলশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শুক্রবার সকালে যশোর সদরের তেঘরিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ১৭ ঘণ্টার মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে যশোর সদর উপজেলার বাজেদুর্গাপুর গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত আনোয়ারা খাতুন (৬৫) অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. আলতাফ হোসেনের স্ত্রী।
পিবিআই জানিয়েছে, ঘটনার সময় মামুনুর রশিদ বাড়িতে এসে মায়ের কাছে গোসলের জন্য গামছা চান। এ সময় তার দুই স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার বিষয় নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আনোয়ারা খাতুন ঘরের দিকে যাওয়ার জন্য পেছনে ফিরলে পাশে থাকা তরকারি কাটার বটি দিয়ে তার পিঠে কোপ দেন মামুনুর রশিদ। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে মুখমণ্ডল, মাথা, পিঠ ও হাতে একাধিক কোপ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পরে তার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান মামুনুর রশিদ।
হত্যাকাণ্ডের পর নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান তিনি। পিবিআইয়ের ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। পরে স্থানীয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। শুক্রবার সকালে তেঘরিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।
পিবিআই জানায়, মামুনুর রশিদ একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক। তার দুই স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পেছনে মায়ের ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি সন্দেহ করতেন। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে মায়ের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মঞ্জুর হাসান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। পরে পিবিআই স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।
পিবিআই যশোর জেলা ইউনিটের ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই আসামি মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যার ১৭ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।








