‘তৌহিদী জনতার’ বাধা পেরিয়ে বিয়ানীবাজারে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত

বিয়ানীবাজারের সোনাই নদীতে নৌকাবাইচ
নানা নাটকীয়তা ও অনিশ্চয়তা পেরিয়ে সিলেটের বিয়ানীবাজারের সোনাই নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। ‘তৌহিদী জনতার’ ব্যানারে একটি পক্ষ নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি তোলায় গত এক সপ্তাহ ধরে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে বিষয়টির সমাধান হলে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকালে ‘লাউতা-বাহাদুরপুর যুব সমাজ’-এর আয়োজনে ৩০তম নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
নৌকাবাইচ দেখতে সোনাই নদীর দুই পাড়ে কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হন। দুপুরের পর থেকেই নদীর দুই তীরে উৎসুক মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। মাঝিদের বৈঠার ছন্দ আর নৌকার সাঁই সাঁই গতিতে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। নারী, পুরুষ ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ এ প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে আবহমান বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন দেখতে আসেন।
আয়োজকরা জানান, নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে একটি পক্ষ ‘তৌহিদী জনতার’ ব্যানারে অবস্থান নেওয়ায় আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। পরে প্রশাসনের নির্দেশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আয়োজক ও বিরোধী পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নৌকাবাইচ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘আজ উৎসবমুখর পরিবেশে বিয়ানীবাজারের সোনাই নদীতে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজকদের সঙ্গে আমি এবং পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান সাহেব সমন্বয় করে এই আয়োজনকে সফল করার চেষ্টা করেছি। আসলে তৌহিদী জনতার ব্যানার ব্যবহার করে একটা পক্ষ না বুঝে এটা বন্ধ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমি প্রশাসনের নির্দেশে আয়োজক এবং বিরোধী দুই পক্ষের সঙ্গে বসে এটা সমাধান করে আজকে নৌকাবাইচ যাতে হয়, সেই ব্যবস্থা করেছি। নৌকাবাইচ আয়োজন করতে তৌহিদী জনতার ব্যানারে যারা ছিলেন, তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো শর্ত ছিল না। আমরা তাদের বুঝাতে সক্ষম হই যে, এটা নিয়ে বিরোধিতা করা ঠিক নয়। এটা গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলা, সেটা বন্ধ করা উচিত নয়।’
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বললেন, ‘নৌকাবাইচ বন্ধ করতে আমার কাছে সরাসরি কেউ আসেনি। আমি স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছ থেকে শুনে তাকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম বিষয়টা সমাধান করার জন্য। তিনি যদি ব্যর্থ হতেন, তাহলে আমরা প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতাম। কিন্তু তারা স্থানীয়ভাবে বসে এটা সুন্দর সমাধান করেছেন। আজকে নদীর দুই পাশে কয়েক হাজার মানুষ উপস্থিত হয়ে নৌকাবাইচ উপভোগ করেছেন। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ সদস্যদের সেখানে রেখেছিলাম। কিন্তু সেখানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। মানুষ উৎসাহ নিয়ে নৌকাবাইচ উপভোগ করেছে।’
কোন শর্ত মেনে নৌকাবাইচ হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে ইউএনও বলেছেন, ‘কোন শর্ত মেনে নৌকাবাইচ হয়েছে, সেটা আমি শুনিনি কিংবা আমাকে কেউ বলেনি। আসলে এখানে শর্তের কিছু নেই। এটা গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলা, এটা বাধা দিয়ে কেউ আটকাতে পারবেন না। আয়োজকেরা আয়োজন করতে চাইলে প্রশাসন তাদের সহযোগিতা করবে।’








