কুড়িগ্রাম
খাদ্যশস্য আত্মসাৎ, চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ফাইল ছবি
সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাৎ এবং মজুদে অনিয়মের অভিযোগে কুড়িগ্রাম খাদ্য বিভাগের চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গতকাল মঙ্গলবার দুদকের কুড়িগ্রামের উপসহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান চৌধুরী কুড়িগ্রাম জেলা সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি করেন।
মামলার আসামিরা হলেন কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ, তৎকালীন সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা তৎকালীন খাদ্য নিয়ন্ত্রক হালিমুর রহমান ও কুড়িগ্রামের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ কাজী হামিদুল হক।
উপসহকারী পরিচালক মিজানুর এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, প্রায় দুই কোটি টাকার অধিক মূল্যের সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাৎ এবং মজুদে অনিয়মের অভিযোগে এ মামলা করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ কাজী হামিদুল হক ছাড়া অন্য তিন কর্মকর্তা বদলি হয়ে বিভিন্ন জেলায় কর্মরত আছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুদ ও সংগ্রহের নথি পর্যালোচনা এবং বাস্তব মজুদ যাচাইয়ে বিভিন্ন অসংগতি পেয়েছে দুদকের এনফোর্সমেন্ট দল। এর মধ্যে নথিতে থাকা চালের সঙ্গে বাস্তব মজুদের ঘাটতি, সংগ্রহ করা ধানের হিসাবের অসংগতি এবং বিল পরিশোধের পরও গুদামে না পাওয়ার ঘটনা রয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি দুদকের একটি এনফোর্সমেন্ট দল কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য গুদামের শিশু নিকেতন ও খলিলগঞ্জ গুদামে অভিযান চালায়। অভিযানে চাল ও ধানের মজুদসংক্রান্ত নানা অসংগতির প্রমাণ পায় এনফোর্সমেন্ট দল। খাদ্যশস্য মজুদ, সংগ্রহ এবং বিল পরিশোধে নানা ধরনের অসংগতি দেখতে পান দুদকের কর্মকর্তারা। এসব অসংগতির কারণে এজাহারে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রায় ২ কোটি ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩৫২ টাকা মূল্যের সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ছাড়া কুড়িগ্রাম সদরের শিশু নিকেতন স্কুল সংলগ্ন গুদামের পশ্চিম গেটসংলগ্ন স্থানে নথিবহির্ভূতভাবে ১১৯ মেট্রিক টন চালের মজুদ পায় এনফোর্সমেন্ট দল। যার মূল্য প্রায় ৬৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৫৯ টাকা। এসব চালের সংগ্রহ, ওজন, মজুদ কিংবা পরিবহনসংক্রান্ত বৈধ কোনো নথি দেখাতে পারেননি গুদামের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরীফ আহমেদ। এ জন্য তার বিরুদ্ধে পৃথক আরও একটি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহারে দুদক অভিযোগ করেছে, চার কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশে মজুদ ও সংগ্রহসংক্রান্ত নথিতে অসংগতি তৈরি করে বিপুল পরিমাণ সরকারি খাদ্যশস্য আত্মসাৎ করেছে। তদস্তকালে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পেলে তা আমলে নেওয়া হবে বলে এজাহারে উল্লেখ করেছে দুদক।
উপসহকারী পরিচালক মিজানুর বলেছেন, ‘অভিযানের পর আমরা দুদকের প্রধান কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছিলাম। সম্প্রতি প্রধান কার্যালয় থেকে মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে মামলা করেছি।’
কুড়িগ্রাম জেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ কাজী হামিদুল হক জানিয়েছেন, মামলার বিষয়টি তিনি জানেন না।




