লক্ষ্মীপুর
পাখিদের কিচিরমিচিরে মুখরিত অফিস পাড়া, গাছে গাছে বাসা স্থাপন

পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন গাছে স্থাপন করা হয়েছে শতাধিক বাসা। ছবি : আগামীর সময়
দিনভর কাজের ব্যস্ততা শেষে যখন মানুষ বাড়ি ফেরে, তখন পাখির কিচিরমিচিরে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে লক্ষ্মীপুরের সরকারি অফিসপাড়া। দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামতেই ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি উড়ে এসে বসে গাছের ডালে।
পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা। পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন গাছে স্থাপন করা হয়েছে শতাধিক বাসা। পর্যায়ক্রমে এ সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
ঢাকা-লক্ষ্মীপুর মহাসড়কের ঝুমুর এলাকায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা জজ আদালত, পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসহ আশপাশের বিভিন্ন গাছে পাখিদের এমন বিচরণ দেখা যায়।
গাছের পাশাপাশি বিদ্যুতের খুঁটি ও বিভিন্ন স্থাপনাতেও বসে পাখিরা। প্রতিদিন বিকেলে তাদের কিচিরমিচিরে তৈরি হয় মনোরম পরিবেশ। পাখিদের এমন উপস্থিতি উপভোগ করেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে পথচারীরাও।
পাখিদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় তৈরির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শহরের অন্য যেসব এলাকায় পাখিদের বিচরণ রয়েছে, সেখানেও পর্যায়ক্রমে এমন উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয় পথচারীরা জানান, বিকেলে এ সড়ক দিয়ে হাঁটার সময় পাখিদের কিচিরমিচির শুনে প্রশান্তি অনুভব করেন তারা। হাজার হাজার পাখি একসঙ্গে উড়ে এসে আশপাশের গাছে বসে। এতে এলাকায় তৈরি হয় অন্যরকম পরিবেশ।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, বিশেষ করে শীতের সময় এসব পাখির আনাগোনা বাড়ে। প্রতিদিন বিকেলে হাজার হাজার পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। আশপাশের গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি ও তারে বসে পাখিরা। সন্ধ্যার আগে তাদের কিচিরমিচির শোনা যায়। সন্ধ্যার পর পরিবেশ শান্ত হয়ে আসে।
কর্মকর্তাদের ধারণা, এসব পাখি অতিথি পাখি, যারা সাইবেরিয়া থেকে আসে। চাকরির সুবাদে প্রতিদিনই তারা পাখিদের এই বিচিত্র উপস্থিতি উপভোগ করেন।
পাখিদের জন্য বাসা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণের বিভিন্ন গাছে শতাধিক বাসা স্থাপন করা হয়েছে। পাখিরা যাতে নির্বিঘ্নে রাত কাটাতে পারে, সে জন্য পর্যায়ক্রমে আরও বাসা স্থাপন করা হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সম্রাট খীসা বলেছেন, পাখিদের থাকার উপযুক্ত বাসস্থান না থাকায় তারা গাছের ডালে রাত কাটায়। পাখি ও প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে গাছে কিছু বাসা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
‘এসব বাসায় পাখিরা নিরাপদে থাকতে পারবে। এর মাধ্যমে তাদের জন্য নিরাপদ আবাসের সুযোগ তৈরি হবে’, আশা প্রকাশ করেছেন খীসা।
সম্রাট খীসার ভাষ্য, পাখি, প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সবাই এগিয়ে এলে প্রকৃতিকে আরও ভালোভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।




