রাজশাহী
পদ্মার পানি কমে বেড়েছে সাপ আতঙ্ক

ছবি: আগামীর সময়
পদ্মার পানি কমতে শুরু করেছে। কিন্তু রাজশাহীর চরাঞ্চলের মানুষের আতঙ্ক কমেনি। পানি কিছুটা কমলেও এখনো স্বস্তি ফেরেনি। বরং পানির সঙ্গে ভেসে আসা কিংবা নিচু এলাকা থেকে উঠে আসা সাপ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, নদীর পানি বাড়ায় নিচু এলাকা থেকে বিভিন্ন প্রজাতির সাপ উঠে আসছে লোকালয় ও বসতবাড়ির কাছাকাছি। রাজশাহী নগরীর সীমান্ত অবকাশ এলাকাতেও বিষধর রাসেল ভাইপার দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টায় রাজশাহী পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ২৯ মিটার। আগের দিন শনিবার সন্ধ্যায় এই উচ্চতা ছিল ১৭ দশমিক ৩৩ মিটার। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় পানি কমেছে ৪ সেন্টিমিটার। তবে বিপৎসীমা ১৮ দশমিক ০৫ মিটার হওয়ায় এখনো বিপৎসীমার মাত্র ৭৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নদীর পানি।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার এনামুল হক পানির উচ্চতা কমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কয়েক দিন ধরে দ্রুত বাড়ছিল পদ্মার পানি। এতে শহরের পাশের ভারত সীমান্তঘেঁষা চর খিদিরপুর ও খানপুরসহ নদীর ওপারের বিভিন্ন চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এসব এলাকার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
রাজশাহীর সীমান্ত অবকাশ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে তারা একাধিক বিষধর সাপ দেখেছেন। তাদের দাবি, নদীর পানি বাড়ার কারণে নিচু জায়গা থেকে সাপগুলো উঁচু ও অপেক্ষাকৃত নিরাপদ স্থানে উঠে আসছে। পরে সেখান থেকে সাপ লোকালয় ও বসতবাড়ির কাছাকাছি চলে আসায় ভয় আরও বেড়েছে।
আল আমিন নামের এক কিশোরের ভাষ্য, পানির মধ্য থেকে বড় একটি সাপ উঠে আসতে দেখেছে সে। পরে ঘাটের কাছে সাপটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়রা সেটি মেরে ফেলে।
তমিজা খাতুন নামের এক নারী জানায়, সে-ও একটি বড় সাপ দেখেছে। সেটিকে মারার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত চলে গেছে।
আহাদ আলী নামের আরেক বাসিন্দা বললেন, পানি বাড়ার কারণে নদী ও আশপাশের নিচু জায়গা থেকে সাপগুলো উঁচু স্থানে উঠে আসছে। সেখান থেকে লোকালয়ের দিকে চলে আসায় মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি হয়েছে।
এই আতঙ্কের মধ্যে চিকিৎসা প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীদের জন্য অ্যান্টিভেনম মজুদ রয়েছে। সাপে কাটা রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। অ্যান্টিভেনম বিনামূল্যেই দেওয়া হচ্ছে।
পানিবন্দি মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শাহিদুল ইসলাম জানালেন, পানিবাহিত রোগের বিস্তার ঠেকাতে পানিবন্দি মানুষের মধ্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে। আকস্মিক বন্যার ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণও শুরু হয়েছে।
এদিকে পদ্মার পানি এখনো বিপৎসীমার কাছাকাছি থাকায় নগরীর টি-বাঁধেও সতর্কতা বহাল রয়েছে। জনপ্রিয় এই বিনোদনকেন্দ্রে জনসাধারণের প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেছেন, সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে জরুরি সতর্কতা হিসেবে টি-বাঁধ এলাকায় জনসাধারণের প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে কাউকে প্রবেশ বা জড়ো না হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
বিকাল কিংবা সন্ধ্যায় যেখানে পদ্মার পাড়ে মানুষের ভিড় জমে, সেখানে এখন নীরবতা। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি নগর রক্ষা বাঁধের স্থিতিশীলতাও পর্যবেক্ষণ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড, যোগ করেন তিনি।
আরিফুর রহমান অঙ্কুর বললেন, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি নগর রক্ষা বাঁধ ও নদীতীরবর্তী অন্যান্য অবকাঠামোর পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।




