দুইবার উদ্বোধন হলেও ২০ বছরে চালু হয়নি দাউদকান্দি ট্রমা সেন্টার

চালু হচ্ছে না কুমিল্লার দাউদকান্দির শহীদনগরের ট্রমা সেন্টারটি
কুমিল্লা জেলার একমাত্র ট্রমা সেন্টারটি দাউদকান্দি উপজেলার শহীদনগরে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। সেন্টারটি উদ্বোধনের দুই দশক পার হলেও আজও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। ব্যস্ততম এ মহাসড়কসহ আশপাশের আঞ্চলিক সড়কগুলোতে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটলেও জরুরি চিকিৎসাসেবা না থাকায় বিপন্ন হয়ে পড়ছেন আহতরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রায় ৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ট্রমা সেন্টারটি নির্মাণ করা হয়। পূর্ত বিভাগের অর্থায়নে নির্মাণ শেষে উদ্বোধনও করা হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবলের অভাবে আজও কার্যক্রম শুরু হয়নি।
জানা গেছে, ২০০৬ সালের ৬ অক্টোবর বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সময় তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রথমবার কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন। কিন্তু সরঞ্জামের অভাবে মাসখানেকের মধ্যেই সেটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০১০ সালের ৩০ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক পুনরায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন এবং এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি।
ফলে দুর্ঘটনায় আহতদের অধিকাংশকেই ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য রাজধানীতে নেওয়ার পথে প্রতি বছর প্রাণ হারাচ্ছেন বহু রোগী। দাউদকান্দি, গৌরীপুর, হোমনা, বাঞ্ছারামপুর, মতলব, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন সড়কে দুর্ঘটনায় আহতদের জন্য কার্যকর কোনো জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই।
গত ২৫ এপ্রিল গৌরীপুর–মতলব সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম। স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে ঢাকায় পাঠানো হলেও মেঘনা সেতু পার হওয়ার আগেই তিনি মারা যান। আমিনুলের চাচাতো ভাই স্বপন বলেছেন, ‘আমরা যারা গাড়িতে ছিলাম তাদের আমিনুলের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর যেন কিছুই করার ছিল না।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মুকবুল মেম্বার অভিযোগ করে বলেছেন, আর কতবার উদ্বোধন করলে এ ট্রমা সেন্টারের কার্যক্রম চালু হবে?
সরেজমিনে দেখা গেছে, ২৪ ঘণ্টা চালু থাকার কথা থাকলেও কেন্দ্রটি অধিকাংশ সময়ই তালাবদ্ধ থাকে। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান জানান, পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হলেও একজন চিকিৎসকের মাধ্যমে সীমিত আউটডোর সেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম চেয়ে মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন, পূর্ববর্তী বিএনপি সরকারের সময় কেন্দ্রটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আশা করি আবারও এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হবে।



