বিশেষ ট্রেন, কঠোর নিরাপত্তায় প্রস্তুত শোলাকিয়া

ছবি: আগামীর সময়
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান এবারও এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ঈদ জামাত আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১৯৯তম ঈদ জামাত ঘিরে ইতোমধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে পুরো এলাকায়। লাখো মুসল্লির সমাগমকে সামনে রেখে সম্পন্ন হয়েছে সার্বিক প্রস্তুতি। একই সঙ্গে নেওয়া হয়েছে চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, কোরবানির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এবার ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে। জামাতে ইমামতি করবেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মাঠ ও আশপাশের এলাকায় চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। মাঠের ভেতরে বসানো হয়েছে ৬৪টি সিসি ক্যামেরা এবং চারটি ওয়াচ টাওয়ার থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হবে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, জায়নামাজ ও মোবাইল ফোন ছাড়া অন্য কোনো বস্তু মাঠে বহন করা যাবে না। নিরাপত্তা তল্লাশির জন্য থাকবে সাতটি আর্চওয়ে গেট, মেটাল ডিটেক্টর ও একাধিক চেকপোস্ট। পাশাপাশি ড্রোন ক্যামেরা, ভিডিও ক্যামেরা, বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চালানো হবে।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, মাঠের নিরাপত্তায় ৬০০ পুলিশ সদস্য, দুই প্লাটুন বিজিবি ও ৫৫ জন র্যাব সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া দায়িত্ব পালন করবেন নয়জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতেও বসানো হবে চেকপোস্ট।
দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে চালু রাখা হচ্ছে দুটি বিশেষ ট্রেন শোলাকিয়া এক্সপ্রেস। একটি সকাল ৬টায় ভৈরব থেকে এবং অন্যটি সকাল সাড়ে ৫টায় ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসবে।
ঐতিহ্য অনুযায়ী এবারও বন্দুকের গুলির মাধ্যমে ঈদ জামাত শুরুর সংকেত দেওয়া হবে। জামাত শুরুর ১৫ মিনিট আগে তিনটি, ১০ মিনিট আগে দুটি এবং পাঁচ মিনিট আগে একটি শটগানের গুলি ফোটানো হবে।
ঐতিহ্যবাহী ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে মাঠে দাগ কাটা, মেহরাব ও দেয়ালে চুনকাম, ওজুখানা নির্মাণ এবং পুরো ঈদগাহ ময়দানের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ হয়েছে। মুসল্লিদের চিকিৎসাসেবার জন্য মাঠে থাকবে মেডিকেল টিম ও স্বেচ্ছাসেবক দল।
মুসল্লি কাউসার আহমেদ জানান, প্রতিবছর তিনি শোলাকিয়ায় ঈদের নামাজ আদায় করেন। লাখ লাখ মানুষের সঙ্গে একসঙ্গে নামাজ আদায় করলে ভিন্ন ধরনের অনুভূতি তৈরি হয়। তার ভাষ্য, এখানে অনেক আল্লাহওয়ালা মানুষ আসেন এবং কারও না কারও দোয়া কবুল হবে, সেই আশাতেই তিনি আসেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম মন্তব্য করেন, প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্য থাকলেও শোলাকিয়া ঈদগাহে স্থায়ী উন্নয়ন বা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ চোখে পড়ে না। প্রতি বছর শুধু দাগ কাটা ও রং করার মধ্যেই প্রস্তুতি সীমাবদ্ধ থাকে।
আরেক বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ২০১৬ সালের জঙ্গি হামলা কিংবা করোনা মহামারির সময়ও শোলাকিয়ার জামাতে মানুষের উপস্থিতি কমেনি। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এবারও শান্তিপূর্ণভাবে ১৯৯তম ঈদ জামাত সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।






