ঈশ্বরদীর বিদ্যালয়ের তিন কোটি টাকার ভবনে নিম্নমানের উপকরণ

ছবি: আগামীর সময়
পাবনার ঈশ্বরদীর মিরকামারী আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে চারতলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই অনিয়মের বিষয়টি নজরে এলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তা জানিয়েও প্রতিকার মেলেনি। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর দাবি, স্থানীয় রাজনৈতিক চাপের কারণে নির্মাণকাজের মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় চারতলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৩ কোটি ৮১ লাখ ৪১ হাজার ৮৮৫ টাকার এই কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা হাউস বিল্ডার্স।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মন্নিকা পারভীনের ভাষ্য, নির্মাণকাজ তদারকির জন্য শিক্ষক ও এলাকাবাসীর সমন্বয়ে ১৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কাজের শুরু থেকেই অনিয়ম চোখে পড়ায় কমিটির সদস্যরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার বিষয়টি জানিয়েছেন। কিন্তু তাদের অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়নি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সহকারী ব্যবস্থাপক আরিফ ও ঠিকাদার মাজহারুল ইসলাম অনিয়মের অভিযোগ স্বীকারও করেছেন। তাদের দাবি, স্থানীয় রাজনৈতিক চাপের কারণে নির্মাণকাজে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। স্থানীয় ইউপি সদস্য ওহিদুজ্জামান এবং পাবনা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য রাসেল হোসেনের মাধ্যমে ইট ও বালু সরবরাহ করতে হচ্ছে। সরবরাহ করা উপকরণ দিয়েই কাজ চালাতে হচ্ছে— অভিযোগ তাদের।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর পাবনার সহকারী প্রকৌশলী সাকিব রেজাও রাজনৈতিক চাপের কারণে নির্মাণকাজ যথাযথভাবে তদারক করতে না পারার অভিযোগ করেছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য ওহিদুজ্জামান ও রাসেল হোসেন। তার দাবি, উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে ভালো নির্মাণসামগ্রী দিয়ে ভবনটির কাজ হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছেন।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি জহুরুল ইসলাম জনির ভাষ্য, ঠিকাদার কখনো তাকে রাজনৈতিক চাপ বা প্রতিবন্ধকতার কথা জানাননি। নির্মাণসামগ্রী নিম্নমানের কি না, তা প্রকৌশল অধিদপ্তরই ভালো বলতে পারবে।
বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা নির্মাণকাজের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবনটির নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে, যাতে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হয়।



