প্রান্তিক প্রচেষ্টা
গৃহিণী থেকে উদ্যোক্তা

ছবি: আগামীর সময়
শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন ছিল রাজিয়া সুলতানার। নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণও হয়েছিলেন। কিন্তু পারিবারিক ও সামাজিক বাস্তবতায় সেই পেশায় আর যোগ দেননি। অপূর্ণ সেই স্বপ্ন দীর্ঘদিন তাকে দিয়েছে কষ্ট। তবে থেমে থাকেননি। খুঁজেছেন নতুন পথ আর সেই পথ ধরেই গড়ে তুলেছেন ‘নান্দনিক ক্রাফট’, যা শুধু একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং বহু নারীর আয়ের উৎস। গৃহিণী থেকে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা রাজিয়া সুলতানা এখন অনেক নারীর আস্থার নাম।
নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের সরকারপাড়া এলাকার বাসিন্দা রাজিয়া সুলতানা। তার প্রতিষ্ঠিত নান্দনিক ক্রাফট এখন পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের একটি পরিচিত উদ্যোগ, যেখানে নিয়মিত কাজ করছেন অন্তত ২০ জন নারী। তার শৈশব কেটেছে কিশোরগঞ্জ উপজেলার সিঙ্গেরগাড়ি গ্রামে। রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে দর্শন বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০০৬ সালে সৈয়দপুরের ব্যবসায়ী মালেকুজ্জামান সবুজের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও সেই পথে এগোতে না পারার হতাশা তাকে দীর্ঘদিন তাড়িয়ে বেড়ায়। তবে স্বামীর উৎসাহে তিনি উপলব্ধি করেন, নিজের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ভিন্ন পথেও সফল হওয়া সম্ভব।
সেই ভাবনা থেকেই ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন নান্দনিক ক্রাফট। তবে শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। পুঁজি ছিল না, ছিল না বড় কোনো অবকাঠামো। সন্তানের জমানো ৫ হাজার টাকা দিয়েই শুরু হয় তার উদ্যোক্তা হওয়ার যাত্রা। নিজের হাতে পাটের তৈরি বিভিন্ন পণ্য বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করতেন তিনি। ২০২০ সালে কভিড মহামারীর সময় অনলাইন কেনাকাটার প্রবণতা বাড়লে অর্ডারের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। রাজিয়ার ভাষায়, ওই সময়টিই ছিল তার ব্যবসার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মুহূর্ত।
নান্দনিক ক্রাফটে তৈরি হচ্ছে পাটের হ্যান্ডব্যাগ, শপিংব্যাগ, মানিব্যাগ, ওয়ালেট, টেবিল রানার, কুশন, ওয়াল মিরর, পুতুল, লাঞ্চ বক্স, প্যাকেজিং ব্যাগ, ঝাড়বাতি, শিশুদের দোলনাসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য। পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এসব পাটজাত পণ্যের চাহিদাও বাড়ছে।
রাজিয়া সুলতানার এ সাফল্য জাতীয় পর্যায়েও স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২২ সালে তিনি অর্জন করেন ‘জয়িতা অ্যাওয়ার্ড’। এ স্বীকৃতি তার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রাজিয়া সুলতানা বললেন, ‘নিজে কিছু করার ইচ্ছা থেকেই এ উদ্যোগ। আমার মতো অনেক শিক্ষিত নারী আছেন, যারা সুযোগের অভাবে ঘরে বসে থাকেন। আমি চাই তারা স্বাবলম্বী হোক।’
শুরুতে মাত্র পাঁচজন নারীকে নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। এখন সেই সংখ্যা বেড়েছে কয়েক গুণ। ভবিষ্যতে আরও অন্তত ৩০ নারীকে কর্মসংস্থানের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে তার। পাশাপাশি নারীদের দক্ষ করে তুলতে একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠারও ইচ্ছা রয়েছে।




