যশোরে এবার চাহিদার চেয়ে ১৫ হাজার কোরবানির পশু বেশি

ছবি: আগামীর সময়
গত বছরের তুলনায় এ বছর কোরবানির পশুর চাহিদা ও প্রস্তুতি বেড়েছে যশোরে। জেলায় কোরবানির জন্য মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৭৭টি পশু প্রস্তুত করেছেন খামারি ও কৃষকরা। বিপরীতে চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ১২৮টি পশুর। ফলে চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত রয়েছে ১৫ হাজার ৮৪৯টি পশু। অতিরিক্ত এসব পশু সরবরাহ করা হবে দেশের বিভিন্ন জেলায়।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, যশোরে ১৩ হাজার ৬৪০টি গবাদিপশুর খামারে পশু রয়েছে মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৭৭টি। এর মধ্যে গরু রয়েছে ৭২ হাজার ৫১৮টি। এ ছাড়া ছাগল রয়েছে ৮১ হাজার ২৭৬টি এবং ভেড়া ৪৪২টি।
গত বছর জেলায় কোরবানির জন্য ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৭৪টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছিল। সে সময় চাহিদা ছিল প্রায় ৯৬ হাজার পশুর। এবার পশুর চাহিদা ও পালন দুটোই বেড়েছে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
সদর উপজেলার কিসমত নওয়াপাড়ার খামারি সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, কোরবানিকে সামনে রেখে ১২টি গরু লালন-পালন করেছেন তিনি। এর মধ্যে বিক্রি হয়েছে দুটি গরু।
তিনি অভিযোগ করেন, গরু পালন করলেও অনেক বেড়ে গেছে উৎপাদন খরচ। ভুসি, খৈলসহ দ্বিগুণ হয়েছে প্রায় সব ধরনের পশুখাদ্যের দাম। বাজারে ন্যায্য দাম না পেলে পড়তে হবে বড় ক্ষতির মুখে।
যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের খাজুরা গ্রামের খামারি মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, ১০টি মাঝারি আকারের গরু মোটাতাজা করছেন তিনি। মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা তুলনামূলক বেশি থাকায় সেগুলোর বিক্রি ভালো হবে বলে আশা করছেন তিনি।
সদর উপজেলার কাজীপুর গ্রামের কৃষক মোসলেম উদ্দিন জানিয়েছেন, কোরবানির আগে পশুখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচ অনেক বেড়ে যায় গরু মোটাতাজাকরণে। একটি গরু পালনে যে খরচ হয়, সে তুলনায় দাম পাওয়া যায় না। অনেক সময় গরুর দাম কমে যায় সিন্ডিকেটের কারণে। এতে লোকসানে পড়েন বাড়িতে গরু পালনকারী কৃষকেরা।
কেশবপুর উপজেলার গৌরিঘোনা ইউনিয়নের খামারি কামরুল ইসলাম বলেছেন, একটি গরু লালন-পালনে যে ব্যয় হয়, সেই অনুযায়ী দাম পাওয়া যায় না। প্রশাসন বাজারে দালাল ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি করলে ন্যায্য মূল্য পাবেন খামারিরা।
যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিদ্দিকুর রহমান জানিয়েছেন, এ বছর জেলায় পর্যাপ্ত কোরবানির পশু রয়েছে। খামারি ও কৃষকরা যেমন ন্যায্য দাম পাবেন, তেমনি ক্রেতারাও সাধ্যের মধ্যে পশু কিনতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানিয়েছেন, শুরু থেকেই কাঁচা ঘাস খাইয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু-ছাগল মোটাতাজা করতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে খামারিদের। এতে খরচ কম হয় এবং পশুও স্বাস্থ্যকর থাকে। পাশাপাশি জেলার আট উপজেলার খামারিদের সচেতন করতে বৈঠক, ভিটামিন ও ভ্যাকসিন প্রদানসহ দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন সহায়তা।
কোরবানির পশুর হাটগুলোতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।





