মাদারীপুর সদর হাসপাতাল
বেড বাড়িয়েও সামলানো যাচ্ছে না রোগীর চাপ

ছবিঃ আগামীর সময়
মাদারীপুর জেলা হাসপাতালে অক্সিজেন সংকট কাটলেও তীব্র জনবল সংকটের কারণে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অতিরিক্ত বেড বাড়িয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতালে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। ঠান্ডা, জ্বর, কাশি ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত এসব রোগীর জন্য পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় অনেককে ফ্লোরেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে ২৬৭টি পদের বিপরীতে ১০২টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। এর মধ্যে সিনিয়র কনসালট্যান্ট সার্জারি, জুনিয়র কনসালট্যান্ট অপথালমোলজি, ইএনটি, রেডিওলজিসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদ খালি রয়েছে।
বিশেষ করে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় তাদের অনেককেই ঢাকা, বরিশাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ—দুই দিক থেকেই ক্ষতির মুখে পড়ছেন রোগীরা।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসক পাওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রে রোগী নিয়ে এসে বাধ্য হয়ে অন্য হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
সদর উপজেলার চর গোবিন্দপুর গ্রামের হায়দার শিকদার বলেছেন, ‘দুর্ঘটনায় আহত রোগী নিয়ে হাসপাতালে এসে চিকিৎসক না পেয়ে আমাদের অন্যত্র যেতে হয়েছে। এতে অনেক কষ্ট হয়েছে।’
কলেজ রোড এলাকার হালিমা জানিয়েছেন, আমার মেয়ের শ্বাসকষ্ট হলে হাসপাতালে নিয়ে আসি। অক্সিজেন দেওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হয়, তবে চিকিৎসক পাওয়া কঠিন।
আরেক রোগীর স্বজন রুবেল মাতুব্বর বলেছেন, ‘অক্সিজেন থাকলেই তো হবে না, ডাক্তারও থাকতে হবে। এখানে সেই ডাক্তারই নেই।’
স্থানীয় বাসিন্দা মেহেদী হাসান শুভ বলেছেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতাল নির্মাণ হলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না। দ্রুত জনবল নিয়োগের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ সেবা চালুর দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে মাদারীপুর জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. অখিল সরকার বলেছেন, ‘হাসপাতালে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ রয়েছে। অক্সিজেনের অভাবে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। তবে জনবল সংকটের মধ্য দিয়েই আমাদের চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।’
মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শরীফুল আবেদীন কমল বলেছেন, ‘আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা জনবল সংকট। অক্সিজেন সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই।’
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত শূন্য পদে জনবল নিয়োগ ও হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা হলে জেলার মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাবে।



