মাদকসেবী অপবাদে রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২

গ্রেপ্তার ২ কিশোর
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে মাদকসেবীর অপবাদ দিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহাম্মদকে (৪৩) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
গ্রেপ্তারের পর তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
গ্রেপ্তার দুই কিশোর হলো সোনাইমুড়ী উপজেলার।
রবিবার (৪ অক্টোবর) ভোর পৌনে ৩টার দিকে শাকতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের আইনি হেফাজতে নেয় পিবিআই। পরে বিকাল ৩টার দিকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিক উল্লাহর আদালতে হাজির করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
পিবিআই জানায়, গত ১১ জুন রাত ১১টা থেকে ১২ জুন রাত ১টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে শাকতলা ছিদ্দিকিয়া আলিয়া মাদ্রাসার পূর্ব পাশে এবং পরে নদোনা আছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন সড়কে ফয়েজ আহাম্মদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পূর্বশত্রুতার জেরে মাদকসেবীর অপবাদ দিয়ে পরিকল্পিতভাবে ‘মব’ সৃষ্টি করে তাকে লাঠিসোঁটা ও রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে অভিযুক্ত কিশোরেরা ও তাদের সহযোগীরা। পরে তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে যায় তারা। স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় ফয়েজকে উদ্ধার করে সোনাইমুড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ১২ জুন সোনাইমুড়ী থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করা হয়। গ্রেপ্তার দুই কিশোর বাদেও মামলায় সবুজ (২২), মনা (২৫) ও জামাল (২৬)সহ অজ্ঞাতনামা আসামিও রয়েছে।
মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় সংস্থাটি স্বউদ্যোগে তদন্তের দায়িত্ব নেয়। উপপরিদর্শক ফরিদ উদ্দিনকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা করা হয়।
পিবিআই আরও জানায়, এক মাসের বেশি সময় ধরে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নথিপত্র বিশ্লেষণ ও নিবিড় তদন্তের পাশাপাশি কয়েক দফা অভিযান চালানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এজাহারবহির্ভূত ও তদন্তে উঠে আসা ওই দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে আদালতে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
পিবিআইয়ের তদন্তে আরও জানা গেছে, ওই দুই কিশোর নিজ এলাকা ও আশপাশের এলাকার কিশোরদের নিয়ে একটি দল গড়ে তুলেছিল। দলটি এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি, অরাজক পরিস্থিতি তৈরি এবং ‘মব’ সৃষ্টির মাধ্যমে জনশান্তি বিঘ্নিত করত।
নোয়াখালী পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘মামলার তদন্ত অব্যাহত। এজাহারভুক্ত আসামিদের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



