উজিরপুরে যুবদলকর্মী খুন : জানাজার পর দুই আসামির বাড়িতে আগুন

ছবি: আগামীর সময়
বরিশালের উজিরপুরে যুবদলকর্মী কাওসার হাওলাদারকে (৩২) কুপিয়ে হত্যার ঘটনার পর দুই আসামির বাড়িতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শনিবার সন্ধ্যার পর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের আলামদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
নিহত কাওসারের জানাজা শনিবার এশার নামাজের পর সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে ফেরার পথে আসামিদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার খবর পান সাতলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি কাইয়ুম ভাট্টি।
কাইয়ুম জানালেন, কাওসারের জানাজা শেষে ফেরার পথে জানতে পারেন, হত্যা মামলার দুই আসামির বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আলামদী গ্রামের খালপাড় বড় সেতুসংলগ্ন এলাকায় মামলার এক নম্বর আসামি সজল মোল্লার বাড়ি রয়েছে। অন্য বাড়িটি তার বড় ভাই নান্না মোল্লার। সন্ধ্যার পর কোনো একসময় আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হাওলাদার বলেছেন, বাড়িতে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
উজিরপুর মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেছেন, একটি টিনের ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছিল। সেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যাওয়ার সুযোগ নেই। ঘরটি পুড়ে যাওয়ার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আরও একটি ঘরে আগুন দেওয়ার খবর পেয়েছেন তিনি।
ওসি বলেছেন, কাওসার হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আসামিরা পলাতক। সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কারা আগুন দিয়েছে, তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
যেভাবে হত্যা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে উজিরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত সাতলা ইউনিয়নের পশ্চিম সাতলা কান্দী সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্ত এলাকায় কাওসার হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একটি মাইক্রোবাসে করে আসা একদল ব্যক্তি এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ।
এ ঘটনায় পুলিশ একটি মাইক্রোবাস জব্দসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুই বছর আগে সাতলায় সংঘটিত জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিরোধের জের ধরে কাওসারকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তনাধীন।
পুলিশ জানিয়েছে, এ হত্যার ঘটনায় মামলা হয় শনিবার দুপুরে। এতে আসামি করা হয়েছে ১৪ জনকে। যে ৯ জনকে পুলিশ আটক করেছিল; পরে তাদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।



