কুড়িগ্রামে সার লুট : শোকজ নোটিস পাওয়া ডিলারের প্রশ্ন কৃষক দল নেতাকে নিয়ে

কুড়িগ্রামে সার লুটের ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি (বাঁয়ে) ও গুদামে কৃষকদের ফেরত দেওয়া সারের বস্তা। ছবি: আগামীর সময়
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে গুদাম ভেঙে সারের বস্তা লুটের ঘটনা তদন্তের পর কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে ডিলারকে। গতকাল সন্ধ্যায় তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জমা দেয় কমিটি। তবে ডিলারের অভিযোগ- তদন্ত হয়েছে একতরফা, আমলে নেওয়া হয়নি স্থানীয় কৃষক দলনেতার ‘ফেসবুক পোস্ট’।
গত রবিবার শিলখুড়ি ইউনিয়নের সার ডিলার মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের গুদামের বেড়া ভেঙে ২০২ বস্তা সার নিয়ে যান কৃষকরা। ঘটনা তদন্তে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেকের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি করে স্থানীয় প্রশাসন।
তদন্ত প্রতিবেদনে সার ডিলারের বিরুদ্ধে গাফিলাতি, সার বিক্রির রসিদ না দেওয়া, রেজিস্ট্রার ঘষা-মাজা ও সিন্ডিকেটসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এসেছে। সোমবার রাতেই প্রতিবেদনটি কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসককে পাঠানো হয়েছে। শোকজ করা হয়েছে ডিলারকে। ইউএনও অমৃত দেব নাথ জানালেন এসব তথ্য।
লুটের ঘটনার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন সার ডিলার তাইফুর রহমান মুকুল। তার ভাষ্য, ‘রবিবার সার বিতরণের কথা ছিল। এর আগের দিন শনিবার রাতে ইউনিয়ন কৃষক দলনেতা এনামুল হক ফেসবুকে পোস্ট দেন। রবিবারের ঘটনার সঙ্গে ওই পোস্টের যোগসূত্র আছে।’
বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন তিনি।
শিলখুড়ি ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক এনামুলের আইডি থেকে দেওয়া হয়েছে পোস্টটি। তাতে লেখা, “শিলখুড়ি ইউনিয়নে যারা সারের ডিলার নিয়েছেন তাদেরকে বলছি, আগামীকাল নিরপেক্ষ তদন্ত করে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। গুপ্ত, সুপ্ত হয়ে (বিএনপির) তথা তারেক জিয়া সরকারকে নিয়ে তামাশা... আমরা শিলখুড়ির নেতা-কর্মী ও জনগণ মেনে নেবে না। দোকানদারদের কাছে সার বিক্রি..... দেখা হবে খোলা মাঠে। আমার জানা মতে দেশে সারের কোনো সংকট নেই। আগামীকাল শিলখুড়ি ইউনিয়ন শাখার কৃষক দলের সকল নেতা-কর্মীকে সকাল ৯টায় উপস্থিত থাকার জন্য বলা হইল। আদেশ ক্রমে মো. এনামুল হক, সদস্যসচিব, কৃষক দল শিলখুড়ি ইউনিয়ন শাখা। সবার আগে বাংলাদেশ।”
পোস্টটি নিয়ে তদন্ত হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির সভাপতি আমিনুল হক তারেক বললেন, ‘ফেসবুক পোস্টের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। কৃষকদের সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করা হয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকার কল করা হয় কৃষক দল নেতা এনামুলকে। তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে পোস্টের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মো. সুরুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্যসচিবকে ফেসবুক পোস্টের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে। পোস্টটি ডিলিট করা হয়েছে।’
লুটের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা সংগঠন খতিয়ে দেখবে কি না, এ প্রশ্নে তার কথা, ‘বিষয়টি জেলা কমিটিকে জনানো হয়েছে, কমিটি যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই বাস্তবায়ন করা হবে।’
এ বিষয়ে ইউএনও অমৃতর ভাষ্য, ‘লুটের জন্য কৃষকদের কোনো উসকানি দেওয়া হয়েছে কি না, এসব তদন্ত প্রতিবেদনে আসেনি। এটি পুলিশ খতিয়ে দেখবে।’








