তিস্তাপাড়ে আলোর মিছিল

ছবি: আগামীর সময়
তিস্তা তীরবর্তী পাঁচ জেলার আট স্থানে গণসমাবেশ ও আলোর মিছিল করেছে তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ।
প্রধানমন্ত্রী সংসদে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করায় তাকে অভিনন্দন, প্রকল্পটির দ্রুত একনেকে অনুমোদন ও বাস্তবায়নে রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে এই মিছিল করে সংগঠনটি।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যার পর রংপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের নদীতীরবর্তী বিভিন্নস্থানে একযোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের তারাবাজারের আলীবাবা থিম পার্ক-সংলগ্ন তিস্তাপাড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম হক্কানী।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, চীন সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে ঘোষণা দিয়েছেন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরেই এই সরকার যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি নদীভাঙন রোধ, তিস্তার উভয় তীর সংরক্ষণ, নদী খনন, শাখা-উপনদী পুনরুজ্জীবন, ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ, কৃষি উৎপাদন ও সেচ সম্প্রসারণ, নৌযোগাযোগ, পরিবেশ সংরক্ষণ, শিল্পায়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করার একটি সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ।
তিনি দাবি করেন, এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শুধু প্রতিশ্রুতি শুনেছে। এখন তারা নতুন কোনো আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চায়। তাই তিস্তা অববাহিকার বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার মানুষ আলোর মিছিলে অংশ নিয়ে দ্রুত মহাপরিকল্পনা একনেকে অনুমোদন এবং পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের মতো একটি সুনির্দিষ্ট ও সময়বদ্ধ বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ঘোষণা করা হোক।
সমাবেশ শেষে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে মশাল প্রজ্বালনের মাধ্যমে আলোর মিছিল বের করা হয়। এ সময় সংগঠনের স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আলমগীর কবির, বাবুল আক্তার, আশিকুর রহমান, ববিউল ইসলাম, স্থানীয় সংগঠক আব্দুস ছাত্তার, জিয়াউর কামরুজ্জামান ও রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনটির নেতারা সন্তোষ প্রকাশ করেন, আশায় ছিলাম মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণাসহ একনেকে বরাদ্দ দেওয়া হবে। কিন্তু তা না হলেও চীন সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের আশায় আলোর দ্বীপ জ্বালিয়েছেন।
একই ইস্যুতে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আউলিয়ার বাজার পয়েন্টে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য আব্দুন নুর দুলাল ও মাহমুদ আলম এবং কেন্দ্রীয় নেতা আশরাফুল ইসলাম, পারভিন আক্তার, ওমর ফারুক ও মোনায়েম সরকার।
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার শৈলমারী ও বানপাড়া এলাকার কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান, স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ছাদেকুল ইসলাম, শৈলমারী ইউপি চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান এবং কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম পাশা এলিচ ও জাহাঙ্গীর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বুড়িরহাট তিস্তাতীরে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য বখতিয়ার হোসেন শিশির, কেন্দ্রীয় নেতা সাজু সরকার, মোশাররফ হোসেন, মওলানা জাহিদুল ইসলাম। উলিপুর উপজেলা হোকোডাঙা’র কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য মশিউর রহমান ও কেন্দ্রীয় নেতা মোশাররফ হোসেন।
তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি তিস্তা অববাহিকার মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখন সেই আশাকে বাস্তবে রূপ দিতে দ্রুত একনেক অনুমোদন, অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ এবং বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবি।
এসব কর্মসূচি থেকে আগামীদিনে রংপুর অঞ্চলের রাজনৈতিক, সামাজিক সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় কর্মসূচি ঘোষণার পাশাপাশি ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত একনেক অনুমোদন ও সময়বদ্ধ বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ঘোষণা, অভিজ্ঞ নদী প্রকৌশলী, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও তিস্তা আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ‘তিস্তাা কর্তৃপক্ষ’ গঠন, দক্ষ প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ, সরকারি ব্যবস্থাপনায় ‘তিস্তা বন্ড’ চালু ও বালু-পাথর বিক্রির আয় প্রকল্পে বিনিয়োগ, (৫) ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিতকরণ এবং প্রকল্পের আওতায় পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল, কৃষি অঞ্চল, সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র, কৃষিভিত্তিক সমবায়-শিল্পকারখানা গড়ে তোলা।




