শ্রীমঙ্গল
টাকা জমা দিয়েও পাননি প্রবেশপত্র, ৯ পরীক্ষার্থী বিপাকে

ছবি: আগামীর সময়
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল রেসিডেন্সিয়াল গার্লস মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৯ শিক্ষার্থী ফরম পূরণের টাকা জমা দিলেও এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র পাননি। ফলে চলতি বছরের প্রথম দিনে তারা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন। পরে উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এবং সিলেট শিক্ষা বোর্ডের হস্তক্ষেপে ৮ জন নিয়মিত ও ১ জন অনিয়মিত পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন।
পরীক্ষার দিন সকালে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ কেন্দ্রে প্রবেশপত্র ছাড়া পৌঁছালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রথমে তাদের কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেননি। বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয় কয়েকজন ছাত্রনেতা কেন্দ্রের সামনে জড়ো হন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও কেন্দ্রসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন। বোর্ডের অনুমোদনের ভিত্তিতে বিশেষ ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।
তবে শিক্ষার্থীরা জানান, তারা নির্ধারিত সময়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পরীক্ষায় বসতে পেরেছেন। পরে অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় দেওয়া হলেও এতে ক্ষতি পুরোপুরি পুষিয়ে ওঠেনি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, মানবিক বিভাগের ৯ শিক্ষার্থী কয়েক মাস আগে নিয়ম অনুযায়ী ফরম পূরণের টাকা জমা দেন। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর আগ পর্যন্ত তারা প্রবেশপত্র হাতে পাননি। অ্যাডমিট কার্ড সংগ্রহের জন্য একাধিকবার কলেজে যোগাযোগ করলেও কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সমাধান মেলেনি।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন শারমিন আক্তার, মাসুমা আক্তার, তানিয়া আক্তার, আয়েশা আক্তার নাজমিন, দীপা কাহার, পল্লবী ঠাকুরিয়া, শ্রাবন্তী শীলসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে সুমাইয়া আক্তার নামে একজন অনিয়মিত পরীক্ষার্থীরও প্রবেশপত্র ইস্যু হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার জানান, রমজান মাসেই তারা ফরম পূরণের টাকা জমা দিয়েছেন। বারবার যোগাযোগ করেও প্রবেশপত্র পাননি। শেষ পর্যন্ত ইউএনওর হস্তক্ষেপে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়েছে।
শিক্ষার্থী শ্রাবন্তী শীল উল্লেখ করেন, দেড় ঘণ্টা দেরিতে পরীক্ষায় বসতে হয়েছে। মাত্র ২০ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়ায় অনেক প্রশ্নের উত্তর শেষ করা সম্ভব হয়নি। এর প্রভাব ফলাফলে পড়লে দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
দীপা কাহার জানান, প্রবেশপত্রের জন্য কয়েক দিন ধরে কলেজে ঘুরেছেন। বারবার সময় দেওয়া হলেও পরীক্ষার দিনও তা পাননি। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। এতে তারা মানসিকভাবে চরম উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণের জন্য নির্ধারিত অর্থ গ্রহণ করা হলেও নিবন্ধন ও প্রবেশপত্র-সংক্রান্ত কার্যক্রম যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয়নি। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার অপারেটর অনিক দেবের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তবে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল রেসিডেন্সিয়াল গার্লস মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অসিত রঞ্জন পাল জানান, ৯ শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র ইস্যু না হওয়ার বিষয়টি আগে তার জানা ছিল না। পরে জানতে পারেন, শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার অপারেটরের কাছে ফরম পূরণের টাকা জমা দিয়েছিল। ইউএনও ও সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সহযোগিতায় তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দায় প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, এ দায় কম্পিউটার অপারেটরের। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে তারও দায় রয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দ্রুত শিক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র সরবরাহের চেষ্টা চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান জানান, জেলা প্রশাসন, শিক্ষা বোর্ড ও কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগে তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




